উন্নয়ন গন্তব্যে পৌঁছাইতে হইবে

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪৭

জাপানের পত্রিকা ‘নিক্কি এশিয়ান রিভিউ’ গত বুধবার বাংলাদেশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করিয়াছে। প্রতিবেদনটি কাভার স্টোরি বা মূল প্রতিবেদনের মর্যাদা পাইয়াছে। শিরোনাম : ‘দ্য রাইজ অ্যান্ড রাইজ অব বাংলাদেশ : দ্য ইকোনমি ইজ বুমিং, ডাজ শেখ হাসিনা ডিজার্ভ দ্য ক্রেডিট?’ অর্থাত্ ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে : অর্থনীতির আকার বাড়ছে, শেখ হাসিনা কি কৃতিত্বের আশা করতে পারেন?’ ইহার মাধ্যমে আসলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি ও উন্নয়নের চিত্রই তুলিয়া ধরা হইয়াছে। বলা হইয়াছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত চীনের পর বিশ্বের সর্ববৃহত্ রফতানি খাত। গত এক দশক ধরিয়া গড় প্রবৃদ্ধির হার ছয় শতাংশেরও বেশি। ২০০৯ সালের পর হইতে মাথাপিছু আয় বাড়িয়াছে তিনগুণ। ক্ষুধা জয় করিয়া বাংলাদেশ এখন সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের জন্য খাদ্য উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশ। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অন্যসব খাতের অগ্রগতি, বড় বড় প্রকল্প, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, চীনের বিনিয়োগ ও সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়াও বিশদ আলোচনা করা হইয়াছে।

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় তো বটে, সারা বিশ্বেই এখন এক বিস্ময়কর দেশ হিসাবে বিবেচিত হইতেছে। দ্রুতগতিতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে কেহ কেহ বাংলাদেশকে ‘এশিয়ার টাইগার’ হিসাবেও আখ্যায়িত করিতেছেন। আমরা জানি, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ও দরিদ্র বাংলাদেশকে ‘বটমলেস বাসকেট’ বা তলাবিহীন ঝুড়ি বলিয়া পরিহাস করা হইয়াছিল। অনেকে জানিতেন দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসাবে। কিন্তু বাংলাদেশ আজ ঠিকই বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করিয়া দাঁড়াইয়াছে। ইহার পিছনে আছে মূলত আমাদের আত্মশক্তি ও দৃঢ় মনোবল। সেই সঙ্গে আছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। উন্নয়ন ও অগ্রগতির এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এখন আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সকলেই স্বীকার করিতেছেন যে, রোহিঙ্গা সমস্যা বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকট। কিন্তু নানা  সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এই সংকট মোকাবিলায় সাহসিকতার প্রমাণ দিয়া আসিতেছে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হইবার গৌরব অর্জন করিয়াছে। আগামী দুই দশকের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হইয়াছে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানিদের তিনশত বত্সরের শাসন-শোষণে থাকা একটি দেশ আজ সব দিক দিয়াই জাগিয়া উঠিয়াছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্য-প্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতি দিক দিয়া বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে উপস্থাপিত হইতেছে। গড় আয়ু বাড়িয়া প্রায় ৭৩-এর কাছাকাছি অবস্থান করিতেছে। ইহাছাড়া রেমিটেন্স অর্জনে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রহিয়াছে বাংলাদেশ। পাট রফতানিতে এখনো প্রথম স্থানই ধরিয়া রাখিয়াছে। সবজি উত্পাদনে বিশ্বে তৃতীয় এবং চাউল ও মাছ উত্পাদনে রহিয়াছে চতুর্থ অবস্থানে। এইসব সাফল্য নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক ও উত্সাহব্যঞ্জক। এইজন্য জাপানি সেই পত্রিকাটি মন্তব্য করিয়াছে যে, বাংলাদেশে যদি বড় ধরনের কোনো দ্বন্দ্ব ছাড়া আসন্ন নির্বাচন সম্পন্ন হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তৈরি হইবে একটি আকর্ষণীয় গল্প। সেই গল্প তৈরিতে ও উন্নয়ন গন্তব্যে পৌঁছাইতে আমাদের এখন আন্তরিকভাবে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন।