আড়ংয়ের নারী কর্মীদের পোশাক পরিবর্তনের ছবি তুলে প্রতারণার দায় স্বীকার করেছেন ঘটনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সিরাজুল ইসলাম ওরফে সজীব। এক দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল মঙ্গলবার সজীবকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, ‘আড়ংয়ে কাজ করার সময় নারী কর্মীদের পোশাক পরিবর্তনের ছবি তুলি। এরপর সেই ছবি ফেসবুক, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখাই।’
ডিএমপির সাইবার অপরাধ দমন বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সজীব আড়ংয়ের ‘কর্মচারী ড্রেসিং রুম’ থেকে ভিডিও ধারণের কথা অকপটে স্বীকার করেছে। সজীব জানিয়েছে, আড়ংয়ে চাকরিকালীন সে কর্মচারীর পোশাক পরিবর্তন রুমের বাইরের সানসেটে দাঁড়িয়ে সেলফি স্টিক দিয়ে মোবাইল ক্যামেরার মাধ্যমে গোপনে এসব ভিডিও ধারণ করেছিল। এক বিক্রয়কর্মীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার রাজধানীর ১০৯৮ নম্বর পূর্ব শেওড়াপাড়ার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের এসআই ফারুক হোসেন বাদী হয়ে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
তদন্তসংশিষ্ট সাইবার অপরাধ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার সজীব আড়ংয়ের বনানী শাখায় বিক্রয়কর্মী ছিল। ঐ সময়ই সে নারী কর্মীদের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ থেকে গোপনে ১১ জন নারী কর্মীর ৩৬টি ভিডিও ধারণ করেছিল, যা দিয়ে পরে তাদের ‘ব্ল্যাকমেইলিং’ করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে সে। কখনো সে ভিডিও পাঠিয়ে টাকা দাবি করেছে, আবার কখনো ভিডিও কলে শরীর প্রদর্শনসহ নানা বিকৃত দাবি করেছে তাদের কাছে।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিএমপির সাইবার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও সে তার এক বান্ধবীর কিছু ভিডিও ধারণ করেছিল। মেয়েটার সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পর ঐ ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং শুরু করেছিল। পরে মেয়েটি এ বিষয়ে ব্র্যাকের কাছে অভিযোগ করেছিল। পরে ব্র্যাক তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে সজীবকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছিল। পরে সে তার নারী সহকর্মীর ধারণ করা ভিডিও তাদের কাছে পাঠায়।
এদিকে এ ঘটনায় আড়ংয়ের সব অফিসে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। নারীবান্ধব আড়ংয়ের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে এ ধরনের অভিযোগ অনেকের কাছে প্রত্যাশিত ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আড়ং কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত সজীবকে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করে বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করেছে।
আড়ংয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার আশরাফুল আলম সাংবাদিকদের জানান, এই অভিযোগে গত ডিসেম্বর মাসে সজীবকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তবে তার কাছে আগের করা সব ভিডিও সংরক্ষিত ছিল। সিরাজুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আড়ং যে কোনো যৌন হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নীতিগতভাবে সর্বদা কঠোর অবস্থানে থাকে।
