সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪৯

আলী ফজল মোহাম্মদ কাওছার

বাংলাদেশ এখন নির্বাচনমুখী। নির্বাচনী উত্সব বিরাজ করছে চারিদিকে। এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মহাজোট আর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচন নিয়ে এই দুই জোটের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের এক সময় নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত ছিল। তাদের সাত দফা দাবি ছিল। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সংলাপের জন্য চিঠি দিয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন। চিঠির সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে দুইবার সংলাপে বসেছেন। এটি রাজনীতির জন্য ইতিবাচক দিক। এর থেকে প্রমাণ হয় সংঘাতের পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। সংলাপ সফল হলো কিনা সেই আলোচনায় না গিয়ে এটা গণতন্ত্রের জন্য, দেশের জন্য ভালো খবর যে সব দল এখন নির্বাচনমুখী। সব দল নির্বাচনমুখী হওয়ার ফলে আমরা আশা করতে পারি গত নির্বাচনের পূর্বে এবং পরে যে সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছিল সেটি আর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের দলের মনোনয়ন বিক্রি করেছে। উত্সবমুখী পরিবেশে দলীয় মনোনয়নপত্র কিনেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। কেউ রঙ-বেরঙের গাড়ি নিয়ে কেউ কেউ ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে মনোনয়ন কিনতে এসেছেন তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে। প্রার্থীরা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন ভোট চাচ্ছেন, দোয়া চাচ্ছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মিছিল-সমাবেশ করছে। চারিদিকে নির্বাচনের আমেজ। চায়ের টেবিল থেকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালতে নির্বাচনী আলোচনা। বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে মান-অভিমান ভাঙ্গানোর কাজ চলছে। চারিদিকে নির্বাচনী উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে। যে উত্সবের সৃষ্টি হয়েছে তা নির্বাচনের তারিখ নিকটবর্তী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরো বাড়বে। প্রতিটি দল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এমন একটি অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে আমরা আশা রাখি যেটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। আমাদের জন্য খুশির খবর আমরা আগামীতে জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির মত শক্তিশালী বিরোধী দল পাব। সংসদের পরিবেশ হবে আকর্ষণীয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সরকারি দল এবং বিরোধী দল মিলে তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতার মাধ্যমে আমাদের সাধারণ মানুষের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পাস করবে মহান জাতীয় সংসদে। তারা বিভিন্ন জনবান্ধব, কল্যাণমুখী বাজেট পাস করবে। যাতে আমরা আগামীতে উন্নত বাংলাদেশের পথে অগ্রসর হবো। নির্বাচন পূর্ব কিংবা পরবর্তী সংঘাত আর আমরা চাই না। আমরা আগামী দিনের সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই। আমরা নির্বাচনমুখী উত্সবে সামিল হতে চাই। নির্বাচনের আমেজ বজায় থাকুন নির্বাচন পর্যন্ত কোনো সংঘাত ছাড়াই। হাড় কাঁপানো শীতের দিনের নির্বাচনে জ্বরে কাঁপুক বাংলাদেশ।

n লেখক :শিক্ষার্থী, এমসি কলেজ, সিলেট