প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর টাকার বিষয়ে মিথ্যাচার করায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আমান ফিডের চার পরিচালককে ১ কোটি টাকা জরিমানা করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি। গত মঙ্গলবার বিএসইসির কমিশন সভায় জরিমানার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, আমান ফিডের বিরুদ্ধে বড়ো ধরনের আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বিএসইসি। কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা তুলে সঠিকভাবে ব্যবহার করেনি। আর নির্ধারিত খাতে টাকা ব্যয় না করে বিএসইসির কাছে মিথ্যা প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। এই অপরাধে কোম্পানির চার পরিচালককে ২৫ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকা জরিমানা করেছে কমিশন।
আমান ফিডের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদে পাঁচ সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন—চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম, পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম এবং আজিজুল হক।
আজিজুল হক বাদে অন্য চার পরিচালককে জরিমানা করা হয়েছে। আজিজুল হক এ কোম্পানির মনোনীত পরিচালক। তিনি পর্ষদে আমান ফিডের উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন আমান এগ্রোর প্রতিনিধিত্ব করছেন।
আমান ফিড লিমিটেড ২০১৫ সালে আইপিও ইস্যু করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৭২ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। কোম্পানিটি আইপিওতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারে ২৬ টাকা করে প্রিমিয়াম নিয়ে ৩৬ টাকা দরে শেয়ার বিক্রি করে।
কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ম্যাবস অ্যান্ড জে পার্টনার্স চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট আমান ফিড লিমিটেডের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করে দেখেছে যে, আমান ফিড আইপিওর টাকা ব্যবহার নিয়ে মিথ্যাচার করেছে।
বিধি অনুসারে, আইপিওর টাকা কোথায় বিনিয়োগ করা হবে তা প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করতে হয়। কোনো কারণে ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় পরিবর্তন এলে বা অন্য কোনো খাতে বিনিয়োগ করতে চাইলে সাধারণ সভা ডেকে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি ও বিএসইসির অনুমতি নিতে হয়। এছাড়া আইপিওর অর্থ ব্যবহারের হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে নিয়মিতভাবে বিএসইসিতে প্রতিবেদন পাঠাতে হয়।
ঐ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্টের মাধ্যমে সত্যায়িত করতে হয়। আমান ফিড কর্তৃপক্ষ অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার না করে বিএসইসিকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে আমান ফিডের আইপিওর টাকা ব্যবহারে দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দায়ে চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্সি প্রতিষ্ঠান একনাবিন এবং একনাবিনের এক পার্টনার মো. রোকনুজ্জামান এফসিএ-এর বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি। একনাবিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্টদের সংগঠন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) কাছে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। আর রোকনুজ্জামানের ওপর অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে রোকনুজ্জামান আইপিওতে আসা কোনো কোম্পানির অর্থ ব্যবহারের নিরীক্ষা করতে পারবেন না।
