অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ

কঠিন লড়াই দেখছেন অধিনায়ক

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৪৪

গত বিশ্বকাপে স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে এই দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। সেই অভিজ্ঞতাটা এবার বদলানোর বিকল্প নেই। সুপার লিগ সেমিফাইনালে উঠতে গেলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে হবে বাংলাদেশ দলের। এই চ্যালেঞ্জ নিয়েই আজ পচেফস্ট্রুমে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সুপার লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হচ্ছে আকবর আলীর দল। বাংলাদেশের যুব বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য তৃতীয় স্থান অধিকার করা। সেই সাফল্য পেতে চাইলে অন্তত সেমিফাইনালে যেতে হবে বাংলাদেশকে। গত দুই বছরে দেশে ও দেশের বাইরে বাংলাদেশ যুব দলের ফলাফল এই দলটিকে নিয়ে আশাবাদী করে তুলেছে সবাইকে। অনেকেই আকবর আলীর এই দলকে ফাইনালে দেখতে পাচ্ছিলেন। সেজন্য জরুরি হলো আফ্রিকানদের বাধা পার হওয়া।

দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হওয়ার আগে বাংলাদেশের অধিনায়ক আকবর আলী বলছিলেন, এটা কঠিন একটা ম্যাচ হতে যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে তিনি খুবই গোছানো একটা দল বলে মনে করছেন। তারপরও বলছিলেন, নিজেদের সম্ভাবনা অনুযায়ী খেললে তাদের হারানো সম্ভব, ‘আমার মনে হয় দুই দলের সুযোগ ফিফটি ফিফটি থাকবে। আমাদের জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং একটা খেলা হতে যাচ্ছে। কারণ আমরা দেখেছি দক্ষিণ আফ্রিকা খুব ডিসেন্ট একটা দল, ভালো দল। আশা করি ভালো কিছুর। আমরা যদি ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই  ভালো করতে পারি, তাহলে ওদের হারানো সম্ভব।’

আকবর আলীর একটা বড়ো দুশ্চিন্তা হয়েছে ব্যাটিং। এই ব্যাটিং বাংলাদেশকে গত দুই বছরে অনেক পারফরম্যান্স এনে দিয়েছে। কিন্তু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ধসে পড়েছিল হূদয়দের ব্যাটিং। আকবর বলছিলেন, তারপর থেকে তারা ব্যাটিং নিয়ে বিশেষ কাজ করছেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে আমাদের ব্যাটিংটা অতটা ভালো হয়নি। আমরা কিছু বাজে শট খেলেছি। চেষ্টা করছি যে, সেই মিসটেকগুলো যতটা কমিয়ে আনা যায়। আমরা ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে মনোযোগটা একটু বেশি দিচ্ছি।’

ব্যাটিং নিয়ে ভাবতে গিয়ে অবশ্য বোলিংটা ভুলে যাচ্ছেন না অধিনায়ক। তিনি বলছিলেন, ঠিক কী করতে হবে বল হাতে, ‘বোলিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের পরিকল্পনা হলো প্রথম ও শেষ পাওয়ার প্লেতে যতটা সম্ভব টাইট বোলিং করতে হবে। লাইন ও লেন্থ ঠিক রেখে ওদের যত কম রানের মধ্যে আটকানো যায় সেই চেষ্টা করতে হবে আমাদের।’

এই ম্যাচের আগে আরেকটা বড়ো চিন্তা হলো ইনজুরি। দলের বিশ্বস্ত অলরাউন্ডার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীকে তারা পাচ্ছে না চোটের কারণে। স্কোয়াডে ইতিমধ্যে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর বদলি নেওয়া হয়েছে। এমএম মেহেরব হাসান তার বদরী হিসেবে দলে যোগ দিচ্ছেন। মেহেরব বাহাতি ব্যাটসম্যান ও ডানহাতি অফস্পিনার।  হালকা চোট নিয়েই হয়তো খেলবেন শামীম হোসেন। আকবর বলছিলেন, এটা মেনে নিয়েই এগোচ্ছেন তারা, ‘ইনজুুরির ওপর তো আমাদের কারো হাত নেই। মৃত্যুঞ্জয়কে পাওয়া যাবে না। এটা তো একটা ধাক্কা। তবে শামীমের যেটা ছিল (গোড়ালির ইনজুরি), সেটা কাটিয়ে উঠেছে। আশাকরি, কালকের ম্যাচে ওকে পাওয়া যাবে। আসলে ইনজুরি নিয়ে তো ভেবে কিছু করার নেই। আমাদের যে টিম আছে, সেটা নিয়েই লড়াই করতে হবে।’