চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু অসাধু মৌসুমি মাটি ব্যবসায়ী কৃষকদের নগদ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কিনে নিচ্ছে ফসলি জমির এই টপসয়েল। সেই মাটি বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় ইটভাটায়। এতে করে উর্বরতা হারাচ্ছে স্থানীয় ফসলি জমি।
সরেজমিনে মঙ্গলবার মিরসরাই উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর তালবাড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন শ্রমিক ফসলি জমির ওপরের প্রায় ৩ ফুট করে মাটি কেটে তুলে দিচ্ছেন দুইটি মিনিট্রাকে। এ সময় মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত সাইফুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন শ্রমিক ইত্তেফাককে জানান, প্রতি ট্রাক মাটি কেটে দেওয়ার জন্য তারা ১২০ টাকা করে পেয়ে থাকেন। গড়ে প্রতিদিন তারা ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক মাটি কাটতে পারেন। শ্রমিকরা আরো জানান, তাদের কেটে দেওয়া মাটি প্রতি ট্রাক স্থানীয় ইটভাটায় ২২০ টাকা করে বিক্রি করা হয়।
উত্তর তালবাড়িয়া গ্রামে ফসলি জমির টপসয়েল কাটার সঙ্গে জড়িত মো. জহির বুধবার ইত্তেফাককে বলেন, ঐ জমি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। পার্শ্ববর্তী জমি থেকে অনেক উঁচু হওয়ায় জমিটি সমান করার জন্য কিছু মাটি কেটে স্থানীয় সুফিয়া রোডের একটি ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। জমির টপসয়েল কেটে নিলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায় একথা আমার জানা ছিল না। ফসলি জমির ওপরের স্তরের মাটি (টপসয়েল) কেটে নেওয়া প্রসঙ্গে মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা ইত্তেফাককে বলেন, ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নিলে মাটির উর্বরাশক্তি নষ্ট হয়ে যাবে। ফসল উত্পাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। কেউ যদি জমির টপসয়েল কেটে থাকেন তাহলে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। তিনি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করতে পারেন।
এ ব্যাপারে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন ইত্তেফাককে বলেন, ফসলি জমির উপরিস্তরের মাটি (টপসয়েল) কাটার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে। যারা জমির টপসয়েল কাটার সঙ্গে জড়িত তাদেরকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
