ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্রতিবছরের মতো এবারও ক্রেতা দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে কারুপণ্য প্যাভিলিয়নের শতরঞ্জিসহ নানা গ্রামীণ পণ্য। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি দৃষ্টিনন্দন দোতলা এ প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়নটি তৈরি করা হয়েছে। প্রবেশমুখেই কাঠের ফলকে লেখা রয়েছে ‘কারুপণ্য এর শতরঞ্জি’ এবং জীবনানন্দ দাশের লেখা দুটি চরণ ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে—এই বাংলায়’। ফলে বাইরে থেকেই দর্শনার্থীদের মন কাড়ছে।
প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখা যায়, নানা রঙের সুতো আর নকশার সমন্বয়ে কাঁচা পাট, পাটের সুতলিসহ দেশীয় কাঁচামাল দিয়ে তৈরি শতরঞ্জি, পাপোশ আর বিভিন্ন ধরনের ম্যাট দেখছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। প্যাভিলিয়নের দ্বিতীয় তলায় নকশা করা কারুপণ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যাগ, লুঙ্গি, কামিজ, বিছানার চাদর, শাড়ি, নকশিকাঁথাসহ বিভিন্ন পণ্য। এছাড়া মাটির তৈরি পাত্র, মগ; লোহার তৈরি দা, জাঁতা, বঁটি, ছুরি এবং কাঠশিল্পের বিভিন্ন পণ্য। এসব পণ্যে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া একটি কিনলে একটি ফ্রি, দুটি কিনলে দুটি ফ্রিসহ রয়েছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার। ছোটো ম্যাট ৮০ টাকা, মার্থ ম্যাট ৯৫ টাকা, আউট ডোর ম্যাট ৩৮০ টাকা এবং ফ্লোর ম্যাট বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা থেকে ৬০০০ হাজার টাকায়। এছাড়া বাঁশের তৈরি চালুনি ১৬০ টাকা, মাছ রাখার খলাই ২৬০ টাকা, খাবার ঢাকনা ৩৩০ টাকা, পাটের ব্যাগ ১৫০-৫৫০ টাকা, কাঠের ফুড বাস্কেট ৪২৫ টাকা, মাটির তৈরি মগ ৮০ টাকা, জগ ২৮০ টাকা এবং ১৬৫-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে নানা ধরনের শো পিস।
বিক্রয়কর্মীরা বলেন, ‘মেলার শুরুর থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল। শতরঞ্জিতে বেশি আগ্রহ ক্রেতাদের। এখানকার ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলোর ব্যবহার অনেক কম। অনেকেই বাসায় স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করার জন্য কিনছেন। প্রাচীন সংস্কৃতি ধরে রাখার চেষ্টা করছি আমরা। কারুপণ্যের ৯০ শতাংশ নারী শ্রমিক। এসব পণ্য নগরবাসীর কাছে জনপ্রিয় করতে পারলে এ শিল্পে জড়িত গ্রামের দরিদ্র মানুষেরও ভাগ্য ফিরবে।
মেলায় আসা এক গৃহিণী বলেন, প্ল্যান করে শতরঞ্জি কিনতেই এসেছি, শেষ সময়ে অফারও রয়েছে বেশ। দেশীয় কারিগরদের হাতে তৈরি এসব শতরঞ্জি ব্যবহার করতে ভালো লাগে।
