আমদানিনির্ভর চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম সম্প্রতি বাড়তির দিকে। বিশেষত আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়ছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান ট্যারিফ কমিশন স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ার পেছনে অতিরিক্ত শুল্ক-করকেও দায়ী করেছে। এর ভিত্তিতে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিনি ও ভোজ্যতেলের ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর জন্য চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিশেষত আগামী রমজান মাস সামনে রেখে এসব ভোগ্যপণ্যের বাজার যাতে অস্থিতিশীল না হয়ে ওঠে—এ বিষয়ে আগাম পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ মনে করছে, ভ্যাট ও শুল্কের কারণে এসব পণ্যের দাম বাড়ার কারণ নেই। কেননা, এসব পণ্য আমদানির পর রিফাইন (পরিশোধন) শেষে স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়ায় সঠিক হিসাব রাখলে রেয়াত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় রেয়াত নেওয়ার পর কেজিপ্রতি করের প্রভাব এক টাকারও কম। অন্যদিকে আমদানিকারকেরা যে মূল্য সংযোজনের হিসাব দেন, সেই বিবেচনায় তারা ফেরত নিতে পারলে তা আরো কমে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাবে এনবিআরের দুটি বিভাগ এ বিষয়ে একটি অবস্থানপত্র তৈরি করছে। তাতে এসব নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণ যে এনবিআরের কর কাঠামো নয়, তার ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। শিগগিরই এনবিআর বিষয়টি অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে পাঠাতে পারে।
গত কয়েক মাস ধরে পেঁয়াজের দরের মাত্রাতিরিক্ত ঊর্ধ্বগতি সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। প্রতিবছর রমজানের আগে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসলাসহ অন্য নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে যায়। এবার পেঁয়াজ নিয়ে অস্বস্তির মধ্যে নতুন কোনো অজুহাত তুলে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামে ব্যবসায়ীরা যাতে কারসাজি করতে না পারেন, এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে চিনি ও ভোজ্যতেলে বিদ্যমান শুল্ক কমানোর অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বর্তমানে ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। এছাড়া আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম কর বা এটি ৫ শতাংশ, উত্পাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বিক্রয় ও সরবরাহ পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। আগে কেবল আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, নিত্যপণ্য হিসেবে এসব প্রণ্যের ওপর এই হারে ভ্যাট কাম্য নয়। ভোজ্যতেলের (সয়াবিন তেল, পাম তেল ও পাম অলিন) দাম সহনীয় রাখতে পূর্বের ন্যায় কেবল আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট রাখার প্রস্তাব করেছে। এছাড়া আমদানি, উত্পাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আরোপিত ভ্যাট ও অগ্রিম কর প্রত্যাহার করে টনপ্রতি ১৫ হাজার টাকা ট্যারিফ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছে। স্থানীয় সরিসার তেল উত্পাদনে বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাটও প্রত্যাহার করার কথা বলা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা হলে ভোজ্যতেলের দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়।
