ইটভাটা ও ফিটনেসহীন গাড়ির ধোঁয়াতে দূষিত হচ্ছে রাজধানীর বাতাস বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। গতকাল বুধবার রাজধানীর শ্যামলীর টিবি হাসপাতালে আয়োজিত সায়েন্টিফিক সেমিনারে তারা এ কথা বলেন। ‘ক্রমবর্ধমান মারাত্মক বায়ুদূষণে বক্ষব্যাধি রোগের ওপর প্রভাব, প্রতিকার এবং আশু করণীয়’ শীর্ষক সায়েন্টিফিক এ সেমিনারের আয়োজন করে ‘চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’।
বায়ুদূষণ একটি নীরব ঘাতক উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত এমপি বলেন, বায়ুদূষণ মনুষ্য তৈরি। আমরা অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটা তৈরি করছি, সেখানে কোনো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছি না। বিভিন্ন কল-কারখানার বর্জ্য বাতাসে মিশে দূষণ করছে। পাশাপাশি ফিটনেসহীন গাড়ির ধোঁয়া বায়ুদূষণ করছে যা আমাদের দেহে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছে। বায়ুদূষণের প্রতিকার ও আশু করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের এখনই সচেতনতা তৈরি করতে হবে। ইটভাটার ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, শীতের সময় সাধারণত বাতাসে দূষণের জন্য দায়ী ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোর আশপাশে গড়ে ওঠা প্রায় ছয় হাজার ইটভাটা এ জন্য প্রধানত দায়ী। শীতে এগুলো চালু হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামত বেড়ে যাওয়ায় বাতাস স্বাভাবিকভাবেই দূষিত হয়। চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মীর্জা মো. হিরনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বি আই পি) এর সভাপতি অধ্যাপক আকতার মাহমুদ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, ন্যাশলাল ইনস্টিটিউট অব ডিজিজেস অব দি চেস্ট অ্যান্ড হসপিটালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইদুল ইসলাম এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক ও উপ-পরিচালক ডা. আবু রায়হান, ডা. খায়রুল আনাম প্রমুখ।
