বগুড়া হাসপাতালে দায়িত্ব পালন না করে ডাক্তারের ঢাকায় প্র্যাকটিস

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ০১:১৩

বগুড়ার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক ডাক্তারের বিরুদ্ধে হাসপাতালের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন না করে ঢাকায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার দুদকের একটি টিম অভিযান চালিয়ে এ অভিযোগের প্রমাণ পায়। এদিকে দুদকের একই টিম অপর এক অভিযানে বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা প্রদানে অনিয়ম ও ভোগান্তির প্রমাণ পেয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুত্ অফিসে বিদ্যুত্ সংযোগ প্রদানে ঘুষ, এবং পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের ইমপ্রেস ফান্ড হতে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়েছে। অপরদিকে নরসিংদীতে মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী, কক্সবাজারের উখিয়ায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক সরকার প্রদত্ত টাকা আত্মসাতের অভিযোগেও দুদকের পৃথক টিম অভিযান চালিয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, সম্প্রতি দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (টোল ফ্রি হটলাইন-১০৬) অভিযোগ আসে যে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন না করে ঢাকায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। এ অভিযোগের পর গতকাল বুধবার দুদকের বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয় হতে একটি টিম সরেজমিন অভিযান পরিচালনা করে। টিম অভিযানে গিয়ে প্রমাণ পায় যে উল্লিখিত ডাক্তারের অনুপস্থিতির কারণে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ মামলার ফরেনসিক রিপোর্ট পেন্ডিং রয়েছে। উক্ত ডাক্তারের অনুপস্থিতির বিষয়ে কলেজের প্রিন্সিপাল দুদক টিমকে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে একই টিম অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে প্রমাণ পায় যে সেখানে সেবা প্রদানে অনিয়ম ও ভোগান্তি রয়েছে। অভিযানকালে উপস্থিত সেবাপ্রার্থীগণ দুদক টিমের নিকট উক্ত অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য ও সেবা প্রদানে কর্মচারীদের অনাগ্রহের অভিযোগ জানান। তবে দুদক টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে দালালগণ পালিয়ে যায়। টিম আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালককে অবিলম্বে দালালদের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান। এছাড়া যে সকল কর্মচারী সেবাগ্রহীতাদের প্রতি দুর্ব্যবহার করেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্যও অনুরোধ করা হয়।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুত্ অফিসে দুদকের অপর একটি টিম অভিযান চালিয়ে বিদ্যুত্ সংযোগ প্রদানে ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ পান। অভিযানকালে গ্রাহকদের নিকট হতে ঘুষ গ্রহণকালে একজন দালাল হাতেনাতে ধরা পড়ে, তাকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই টিম প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কর্তৃক সোলার ও এলজিএসপির জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এবং ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক স্কুল সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুইটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। এছাড়া পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের ইমপ্রেস ফান্ড হতে গাড়ি মেরামত, তেল ক্রয়সহ বিভিন্ন দৈনন্দিন খরচের টাকা ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগে, নরসিংদীতে মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে এবং কক্সবাজারের উখিয়ায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক সরকার প্রদত্ত টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের একাধিক টিম গতকাল বুধবার অভিযান চালায়।