গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিরা বলেছেন, আসন্ন সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নানা ষড়যন্ত্র করছে। খোদ বিএনপির ভোটাররাও দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে যে, বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে, নাকি অতীতের মতো নির্বাচনের সকালে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মাঠ ছেড়ে পালাবে। কারণ অবৈধভাবে সামরিক স্বৈরাচারের হাতে জন্ম নেওয়া বিএনপি জন্মগতভাবেই নির্বাচনকে ভয় পায়, নির্বাচন দেখলেই তাদের গায়ে জ্বর আসে।
প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে গতকাল রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফ, জলবায়ুবিষয়ক উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, সরকারি দলের আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী, জিল্লুল হাকিম, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, মেহের আফরোজ চুমকি, মমতাজ বেগম, হাবিবা রহমান খান, আলী আজম, উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, গাজী মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ এবং জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম।
অধ্যাপক আলী আশরাফ বলেন, জাতির পিতার জন্ম না হলে বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফখরুল ইমাম বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণে সরকার আয়কর প্রদানে যোগ্য বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে যাচ্ছে না, যেতে পারছে না। ব্যাংকিং সেক্টর আজ প্রায় ধ্বংসের মুখোমুখি।
উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, তলাবিহীন ঝুড়ি যে দেশটিকে বলা হতো, সেই বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বের সামনে উন্নয়নের রোল মডেল। নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, বিএনপি জন্মগতভাবেই নির্বাচনকে ভয় পায়। কারণ দলটির জন্মই হয়েছে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী সামরিক স্বৈরাচারের পকেট থেকে।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সততা, দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও অগ্রগতির মহিসোপানে। মমতাজ বেগম বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে গানবাজনা বা সাংস্কৃতিক চর্চা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী বিএনপির সংসদ সদস্যদের সমালোচনা করে বলেন, এমপি হিসেবে সব সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন, ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নিচ্ছেন, প্লটের জন্য আবেদন করছেন—আবার নির্লজ্জের মতো নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
