চট্টগ্রাম-১৫ আসন

দুই প্রার্থীর প্রচারণায় মুখর নির্বাচনী মাঠ

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫৯

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে শীতের কুয়াশা আর কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া যতই বাড়ছে ততই বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-বিএনপি অংশগ্রহণ করায় সব ভোটারদের মধ্যেও বেড়েছে উত্সাহ-উদ্দীপনা। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দেবেন, সেই আশায় দিন গুণছেন ভোটাররা। কিছুদিন মাঠে দেখা মেলেনি বিএনপি-জামায়াতের। এখন তারাও কৌশলে সরব।

মহাজোটের ব্যানারে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের এমপি ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। অপরদিকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা আ,ন,ম শামশুল ইসলাম, এনপিপির ফজলুল হক, ঐক্যফ্রন্টের আবদুল মোমেন চৌধুরী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা নুরুল আলম তালুকদার।

জামায়াতের দুর্গ হিসাবে পরিচিত চট্টগ্রাম-১৫ আসনের ঘাঁটির কঠিন শৃঙ্খল ভেঙেছিলেন বিএনপির কর্নেল (অব.)অলি আহমদ। ২০০১ ও ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আবারও বিজয়ী হন জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ ঘাঁটিতে আবার আঘাত হানে আওয়ামী লীগের ড. নদভী।

সম্প্রতি উপজেলায় একাধিক স্থানে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড। নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও তার স্ত্রী এবং নেতা-কর্মী, সমর্থকরা দিন-রাত পথসভা, উঠান বৈঠক করে যাচ্ছেন। সন্ত্রাসের জনপদ খ্যাত সাতকানিয়াকে শান্তির জনপদে ফিরিয়ে এনেছেন ড. নদভী। স্বাধীনতার পর অন্যান্য এমপির চেয়ে এলাকায় বেশি উন্নয়ন করেছেন তিনি। এ কারণে তারা সকলে এবার আশাবাদী।

সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী জানান, নৌকার প্রার্থী প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীকে জেতাতে এই দুই উপজেলায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা। আমরা শতভাগ নিশ্চিত এবার নৌকার বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।

অপরদিকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা আ,ন,ম শামশুল ইসলাম। সুষ্ঠু ভোট হলে জামায়াতের দুর্গে ধানের শীষ নিয়ে জেতা জামায়াত প্রার্থীর জন্য সহজ। প্রার্থী জেলখানায় তবুও প্রচারণায় থেমে নেই তারা।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অধ্যাপক শেখ মুহাম্মদ মহিউদ্দীন বলেন, এবারের নির্বাচনে আমিও বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়ে ইতোমধ্যে ফরমও জমা দিয়েছিলাম। ২৩ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন দুই উপজেলার বিএনপির নেতা-কর্মীরা। প্রশাসনের লোকের হয়রানির মধ্যেও আমাদের প্রচারণা থেমে নেই। সুষ্ঠু ভোট হলে আমাদের প্রার্থীকে আমরা বিজয়ী করবোই।

নির্বাচনী মাঠে নিরুত্তাপ প্রচারণায় আছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আবদুল মোমেন চৌধুরী (উদীয়মান সূর্য), এনপিপির প্রার্থী ফজলুল হক(আম) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা নুরুল আলম তালুকদার(হাতপাখা) প্রতীকের প্রার্থীরা।