ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে মর্যাদাবান মানুষ

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৫০

আল্লাহর সৃষ্টি কত বৈচিত্র্যময়। এর মধ্যে আরো বৈচিত্র্যময় মানুষ। মানুষের ব্যাপারে আল্লাহর ঘোষণা, ‘নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি।’ এই সম্মান কেবলই মানুষের জন্য। এই সম্মান প্রদানে কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসকে আমলে আনা হয়নি। রাসুল (স) তায়েফে রক্তাক্ত হয়ে বিরোধিতাকারীদের ধ্বংস চাননি। তাদের হেদায়াত চেয়েছেন। মক্কার মাঠে-প্রান্তরে বেড়ে ওঠা রাসুল (স) মদিনায় হিজরতের সময় কষ্ট পেয়েছেন, বারবার মক্কার দিকে ফিরে তাকিয়েছেন, কিন্তু তাদের ধ্বংস চাননি। বিজয়ী বেশে ফিরে আসার প্রত্যয় করেছিলেন। মক্কায় ইসলাম প্রচারের যারা বিরোধী ছিল, তারা তো রাসুল (স)-এর আপনজনদের মধ্যেই ছিল। অন্যদিকে যারা সহযোগিতা করেছিল, তাদের অনেকেই তখনো মুসলমান হয়নি। শিহাবে আবু তালিবের ইতিহাস তো আমাদের সামনে ঔজ্জ্বল্যমান। সেখানে চাচা আবু তালিবসহ অনেকেই ছিলেন, যারা মুহাম্মদকে রক্ষার জন্য জীবনের অনেক বড়ো ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কিন্তু তারা মুসলমান হননি। রাসুল (স)-কে বাঁচানোর প্রাণান্তকর চেষ্টার মধ্যে ছিল ভালোবাসা ও দরদ। মানুষের প্রতি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রাসুল (স)-এর ভালোবাসা ছিল অফুরন্ত, অবিরাম। আমরা তো হুদায়বিয়ার সন্ধির কথা জানি। এখানে বিশৃঙ্খলা বা যুদ্ধের সম্ভাবনা ছিল, কষ্ট হলেও রাসুল (স) শান্তিকেই প্রাধান্য দিলেন। রক্তপাতের বিপরীতে ভালোবাসার মাধ্যমে মানুষের মন জয়ের নীতিই তিনি অবলম্বন করলেন। মদিনায় কী চমত্কার শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠা করলেন। বিশ্বের ইতিহাসে এমন শান্তিপূর্ণ সমাজ এটাই প্রথম বলতে হবে। সমাজের সব ধর্ম, মত ও পথকে স্বীকৃতি দিতে মদিনার সনদ নামে অবিস্মরণীয় এক চুক্তি করলেন, যাকে সব ঐতিহাসিক ও গবেষক ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। রাসুলের তথা ইসলামের মুখ্য বিষয় হলো ‘মানুষ’। মানুষ যদি সম্মানবোধ না করে, তাহলে তা কোনো আদর্শ বা নীতি নয়। ধর্ম তো নয়ই। এজন্য ইসলাম কেবল আল্লাহর কাছে সিজদা দেওয়া ছাড়া পৃথিবীতে কারো কাছে মানুষের মাথা নোয়াতে নিষেধ করেছে। মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন। এই স্বাধীনতায় কারো হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। মক্কার জাহেলি সমাজ এবং মদিনার কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজে মানুষ মানুষের দাসে পরিণত হয়েছিল। নারীরা ছিল সবচেয়ে নির্যাতিত। নির্যাতন আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পথ বাতলে দিয়েছে ইসলাম। অধিকার, সম্মান ও মর্যাদার আরেক নাম অবশ্যই ইসলাম।

আলী (রা) তার সময়ে মালিক বিন আশতারকে আল্লাহর পর মানুষের সম্মান ও মর্যাদার দিকে লক্ষ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘আপনার হূদয়কে জনগণের জন্য নরম ও আবেগী করুন, তাদের ভালোবাসুন, হিংস্র প্রাণীর ন্যায় তাদের বিরুদ্ধে যাবেন না। মনে রাখবেন, এখানে দুই ধরনের লোক বাস করে। কেউ আপনার ধর্মীয় ভাই তথা মুসলমান, আবার কেউ আপনার ধর্ম মানে না। কেউ ভুল করে আপনার ক্ষমাপ্রার্থী। আপনি তাদের ক্ষমা করুন, ক্ষমা আল্লাহর দেওয়া গুণ, তা আপনি প্রয়োগ করুন। মনে রাখবেন, আপনি তাদের শাসক আর আল্লাহ আপনার ওপরে আছেন।’ সত্যিকারভাবে মানুষের ভালোবাসার নীতির কারণেই ইসলামকে অচিরেই বিজয়ী হিসেবে দেখেছে বিশ্ববাসী।

লেখক :অধ্যাপক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া