বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত মিয়ানমার। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এই প্রত্যাবাসন শুরু হবে। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের পর মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লুইনও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ১৫ নভেম্বর থেকে রোহিঙ্গাদের প্রথম ব্যাচের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে সম্মতিপত্র পাঠায় মিয়ানমার। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে একটি নোট ভার্বালের মাধ্যমে এ সম্মতি জানানো হয়।
উভয় দেশের পদক্ষেপ ও মিয়ানমারের চূড়ান্ত সম্মতি অনুযায়ী প্রথম ব্যাচে ৪৮৫টি পরিবারের ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা ফেরত যাবে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা প্রথম দলে ফেরত যাবে। প্রতিদিন দেড়শ করে ১৫ দিনে এসব রোহিঙ্গা দেশে ফিরবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চলবে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের আগস্ট মাসে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পরিকল্পিত সহিংসতা ও নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। সে সময়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে মিয়ানমার। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গত ৩০ অক্টোবর ঢাকায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গঠিত বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) তৃতীয় বৈঠকে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।
