করতোয়ার শাখা ভুল্লী নদী

সাঁকোর পাশে ভাঙা সেতু দুর্ভোগে স্থানীয়রা

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩৮

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভুল্লীরহাট এলাকায় করতোয়া নদীর শাখা ভুল্লী নদীর ওপর সেতু ভেঙে যওয়ায় যানবাহন চলাচলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বন্যায় দুই বছর আগে ধসে পড়লেও এখনো নির্মাণ হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত সেতু। কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার সেতুটি দেখে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করলেও এখন পর্যন্ত উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে দুই জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলার হাজার হাজার মানুষ রয়েছে চরম দুর্ভোগে।

এদিকে, সেতুর পাশ দিয়ে একটি বাঁশের সাঁকো থাকলেও সেটি ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে ঐ এলাকার মানুষ অন্যের ফসলি জমি দিয়ে চলাচল করছে।

আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের ভুল্লীরহাট এলাকার মো. আবদুল করিম আলী বলেন, ‘ভুল্লী নদীর ওপর ব্রিজটি দীর্ঘ দুই বছর আগে ভেঙে গেছে। অনেকে ভাঙা ব্রিজ দেখে গেছেন; কিন্তু এখনো ব্রিজটি নির্মাণ করেনি। ব্রিজটি নির্মাণ না হওয়ায় অন্যের ফসলি জমির ওপর দিয়ে আমরা চলাচল করছি। আমাদের দাবি ব্রিজটি দ্রুত নির্মাণ করা হোক।’

একই এলাকার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রিজটি এতদিনেও নির্মাণ হয়নি। বন্যা হওয়ার দুই বছর পার হয়েছে; কিন্তু আমাদের ভোগান্তি কমল না। অনেক নেতা এখানে এসে ব্রিজটি নির্মাণ করার কথা বলে গেছেন; কিন্তু এখনো ব্রিজটি নির্মাণ হয়নি। ব্রিজ না থাকায় দুই জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলার হাজার হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমাদের চলাচলে অনেক কষ্ট হচ্ছে।’

সেতুটি দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। দুই জেলার কয়েকটি উপজেলা ও নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের কয়েক হাজার মানুষ এই পথে চলাচল করে। গত ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভুল্লী নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে যায়।

জমির মালিক আবদুল কাদের বলেন, ‘ব্রিজটি ভাঙার পর একটি বাঁশের সাঁকো আমরা দিয়েছি; কিন্তু শুকনো মৌসুমে সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করি না। এই রাস্তা দিয়ে বেশি লোকের চলাচল থাকায় সাঁকোটি নড়বরে হয়ে গেছে এজন্যই আমার জমির ওপর দিয়ে এখন চলাচল করছে। এর ফলে আমার জমির ফসলের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খানসামা উপজেলা প্রকৌশলী সুবীর কুমার সরকার বলেন, ব্রিজটি আমরা তৈরি করার জন্য ইতোমধ্যে প্রজেক্ট পাঠিয়েছি। এখন প্রজেক্ট পাশ হয়ে এলেই ব্রিজটি নির্মাণের কাজ শুরু হবে।