ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন স্থানে উদ্যাপন হয়েছে সরস্বতী পূজা। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
বরিশাল : নগরীর কলেজ ও স্কুলগুলোতে বাণী অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়। সনাতন ধর্মের বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে ভক্তরা। বরিশালে সবচেয়ে বড়ো পূজার আয়োজন হয়েছে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে। বিভিন্ন বিভাগের অংশগ্রহণে কলেজ মাঠে একযোগে ২৩টি মণ্ডপে চলে পূজা অর্চনা। বিএম কলেজ ছাড়াও নগরীর অমৃত লাল দে কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, বরিশাল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) :ভাণ্ডারিয়ায় মানিক মিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উদ্যোগে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বিদ্যাদেবী সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা প্রত্যুষে নতুন পোশাকে সুদ্দভাবে উপোস থেকে পূজার নিয়মানুযায়ী সকল ধর্মীয় রীতি-আচার মেনে অধিক জ্ঞানলাভের জন্য ব্রাহ্মণের মন্ত্র পাঠের সঙ্গে সঙ্গে পুষ্প, পল্লবী দুহাতে নিয়ে করজোড়ে বিদ্যাদেবী সরস্বতী মায়ের পায়ে অঞ্জলি প্রদান করে। পরে খাগের কলম ললাটে ধারণ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোশারফ হোসেন মামুন, উপাধ্যক্ষ মো. আবু জাফর, সহকারী অধ্যাপক হাসিনা বেগম, প্রভাষক মুরাদ হোসেন, ইসরাক হোসেন, কর্মকর্তা জাকির হোসেন প্রমুখ।
রংপুর : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে(বেরোবি) বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল এবং বেশ কয়েকটি বিভাগ পৃথকভাবে পূজা উদযাপন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ক্যাম্পাসের রাসেল চত্বরে কেন্দ্রীয় সরস্বতী পূজার উদ্বোধন করেন। বেরোবি সরস্বতী পূজা আয়োজক কমিটির আহবায়ক ও বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ, সদস্য সচিব উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিখিল চন্দ্র বর্মণ, জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কুন্তলা চৌধুরী প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে, বিভিন্ন মন্দির ও স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়েছে।
মাদারীপুর : মাদারীপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূজা ও অঞ্জলি প্রদান এবং পূজা শেষে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। পূজা শেষে সদর উপজেলার প্রায় ৫১টি মণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বশেমুরবিপ্রবি (গোপালগঞ্জ) : গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান।
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণী অর্চনা, দেবীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, অঞ্জলি প্রদান, আরতি, প্রসাদ বিতরণ, ভক্তিমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আরতি প্রতিযোগিতাসহ দিনভর নানা আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তফিজুর রহমান কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
