চেঙ্গী নদী

সেতু না থাকায় দুর্ভোগে ২৫ গ্রামের মানুষ!

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩৯

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার চেঙ্গী নদীর ওপর সেতু বা ফুটওভারব্রিজ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ২৫টি গ্রামের অন্তত ৪০ হাজার মানুষ। প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানিতে ভরা নদী পার হতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গিয়ে অনেকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বর্ষাকালে পানিবন্দি হয়ে থাকায় কৃষকের বাড়ি-ঘরেই নষ্ট হয় উত্পাদিত কৃষিজ পণ্য। গোলাবাড়ী বটতল, উত্তর গঞ্জপাড়া ও ভাইবোনছড়ার কুমারধনপাড়া এলাকায় সেতু বা ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর আর্থিক ক্ষতি ও সময় সাশ্রয় হবে বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

ভাইবোনছড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পূর্ণজ্যোতি চাকমা ও সাধন চাকমা জানান, চেঙ্গী নদীর ওপর ব্রিজের অভাবে নদীর পশ্চিম পাড়ের শত শত উপজাতীয় পরিবার বলতে গেলে শিক্ষা চিকিত্সাসহ আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে আছে। পাহাড়ি পল্লি গ্রামের মানুষ শুষ্ক মৌসুমে কোনো রকম নদী পার হতে পারলেও বেশি বৃষ্টি হলে এক রকম বন্দি হয়েই থাকতে হয়। স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও যাতায়াতে ভোগান্তিতে থাকে। সদর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান জ্ঞানরঞ্জন ত্রিপুরা জানান, খাগড়াছড়ির দুঃখ নামে পরিচিত চেঙ্গী নদীর পশ্চিম পাড়ের মানুষের যাতায়াত সুবিধার জন্য রাস্তা এবং ব্রিজের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের কাছে বহু আবেদন-নিবেদন করেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পরিমল ত্রিপুরা ও পেড়াছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তপন বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, ভাইবোনছড়ার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া চেঙ্গী নদীতে কুমারধনপাড়া ও বেলতলীপাড়া ও জামতলী এলাকায় কোনো সেতু বা ফুটওভারব্রিজ না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ২৫টি গ্রামের অন্তত ৪০ হাজার মানুষ। সেতু না থাকায় চেঙ্গী নদীর পশ্চিম পাড়ের হাতিমুড়া, বৈষ্ণবপাড়া, ভাঙ্গামুড়া, সাধুপাড়া, অমৃতপাড়া, চেলাছড়া পাড়া, বেলতলীপাড়, লারমাপাড়াসহ মাটিরাঙ্গা উপজেলার আরো বেশ কিছু গ্রামের বাসিন্দারা যাতায়াতে বিপাকে পড়েছে। বর্ষাকালে নদী পারাপারের সময় নৌকা উলটে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রতি বছরই মারা যাচ্ছে কেউ না কেউ। পণ্য পরিবহন জটিলতা, অকাল মৃত্যু, সম্পদহানি ও দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শানে আলম জানান, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে পার্বত্য চট্টগাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যানের বরাবরে চেঙ্গী নদীর পশ্চিম পাড়ে সেতু ও রাস্তা নির্মাণের জন্য দাবি জানিয়েছি। চেয়ারম্যান দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা করে অবিলম্বে প্রকল্পটির কাজ শুরুর নির্দেশও দিয়েছেন; কিন্তু এর কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না।