অভিবাসন নীতি :ট্রাম্পের পাশে সুপ্রিম কোর্ট

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০৬

সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান জানান দিয়াছে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। দলীয় অবস্থানের ভিত্তিতে বিচারপতিদের প্রদত্ত ভোটে ট্রাম্পের নীতির পক্ষে পাঁচ জন ও বিপক্ষে চার জন বিচারপতি ভোট প্রদান করেন। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এখন হইতে কোনো এক ব্যক্তিকে গ্রিনকার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে তাহার অর্থনৈতিক সামর্থ্যকে বিশেষভাবে বিবেচনায় আনিতে পারিবে কর্তৃপক্ষ। উদাহরণস্বরূপ, গ্রিনকার্ডের আবেদনকারী কোনো ব্যক্তি কার্ড প্রাপ্তির পূর্বে আমেরিকাতে অবস্থানকালীন চিকিত্সা, খাদ্য এবং আবাসনের ক্ষেত্রে বিনা মূল্যের সরকারি পরিষেবাগুলি ভোগ করিয়া থাকিলে তাহা উক্ত ব্যক্তির অর্থনৈতিক অসামর্থ্য হিসাবেই পরিগণিত হইবে। এমতাবস্থাতে কর্তৃপক্ষ চাহিলে অন্যান্য শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও উক্ত ব্যক্তিকে গ্রিনকার্ড বঞ্চিত করিতে পারিবেন। উল্লেখ্য, ট্রাম্প অনেক দিন ধরিয়া এই নিয়মটি চালু করিবার চেষ্টা করিলেও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আদালতগুলির নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকাইয়া ছিলেন। এইবার সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত বাগাইয়া ধরিয়া তিনি যে দ্রুতবেগে অগ্রসর হইবেন তাহাতে আর কোনো সন্দেহ থাকিতেছে না। কট্টর অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সমর্থন অবশ্য ইতিপূর্বেও লাভ করিয়াছেন ট্রাম্প। মেক্সিকো সীমান্ত দেওয়াল নির্মাণ প্রসঙ্গটি এই ক্ষেত্রে উদাহরণ হইতে পারে। মেক্সিকো হইতে মেক্সিকানসহ সমগ্র দক্ষিণ আমেরিকার লোকজনের আমেরিকা প্রবেশ ঠেকাইতে মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণে ইচ্ছুক ট্রাম্প। হাজার সমালোচনা-বিদ্রুপ সত্ত্বেও, শেষাবধি কিন্তু ট্রাম্প অগ্রসর হইবার অনুমতি পাইয়াছেন। গত বত্সর সুপ্রিম কোর্ট সবুজ সংকেত দিবার পর হইতে এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলারের সংস্থান করিয়া ফেলিয়াছেন ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প রাখঢাখহীনভাবেই অভিবাসী-শরণার্থী সংখ্যাবৃদ্ধির ঘোর বিরোধী। আগামী নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন মাথায় রাখিয়া শ্বেতাঙ্গ-শ্রেষ্ঠত্ববাদী ভোটারদিগকের মন রক্ষা করিবার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প সামনের মাসগুলিতে আরো কট্টর হইয়া উঠিতে পারিবেন বলিয়া অনুমান করা হইতেছে। মেক্সিকো হইয়া আমেরিকা ঢুকিতে ইচ্ছুক লোকজনকে আবেদন নিষ্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মেক্সিকোতেই ঠেকাইয়া রাখিবার জন্য ‘রিমেইন ইন মেক্সিকো’ নামের এক কর্মসূচি চালু করিয়াছেন ট্রাম্প। এই ক্ষেত্রেও তিনি অভিবাসীবিরোধী আমেরিকানদের মনোরঞ্জনে সক্ষম হইয়াছেন। চূড়ান্ত প্রতিকূল পরিবেশ এবং আবেদন যাচাই করিবার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে শেষাবধি শরণার্থী গ্রহণের সংখ্যা গত বত্সরে বহুলাংশে কমিয়া যাইতে দেখা গিয়াছে। এইদিকে, চলতি বত্সরের জন্য শরণার্থী গ্রহণের সংখ্যা মাত্র ১৮ হাজারে বাঁধিয়া দিয়াছে প্রশাসন। ইহার অর্থ হইতেছে দুর্গত লোকের সংখ্যা যতই হউক না কেন সারা বিশ্ব হইতে উল্লিখিত সংখ্যার অধিক শরণার্থী গ্রহণ করিবে না আমেরিকা। অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতে অনুমতিহীনভাবে আমেরিকাতে আসিয়া পড়া ব্যক্তিদিগকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাইবার ক্ষেত্রে দুই বত্সরের একটি বিলম্বীকরণ নীতি চালু করিয়াছিলেন ওবামা। ট্রাম্প এই নীতির ঘোর বিরোধী। নির্বাচনি বত্সরে তিনি ও তাহার টিম এই নীতিটির বিরোধিতা ধারালো করিবে বলিয়া ধরিয়া লওয়া হইতেছে।

অভিশংসন লইয়া প্রবল ঝক্কির মধ্যে থাকা ট্রাম্পের জন্য উগ্র অভিবাসন-বিরোধিতা চালাইয়া যাওয়াটা হইতেছে ভোট-ব্যাংক ধরিয়া রাখিবার প্রমাণিত এক কৌশল। নির্বাচনের বত্সর তিনি যে এই কৌশলের সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটাইবেন, তাহাতে সন্দেহ নাই।