দুয়ারে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। প্রার্থীদের কাছে কেমন ঢাকা শহর প্রত্যাশা করেন? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে। ইমেইল এবং টেলিফোনে পাঠকের দেওয়া প্রতিক্রিয়া আজ প্রকাশ করা হলো।
আমরা ঢাকা শহরকে আরো বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখতে চাই। শহরে যে আবর্জনা, বর্জ্য জমে সেগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। নানা স্থানে পানি জমে থাকে, মশা তৈরি হয়। যানজট ঢাকা শহরের আরেকটা বড়ো সমস্যা। এ ব্যাপারে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনগণের রায়ে নির্বাচিত মেয়র ও কমিশনারদের সক্রিয়তা আমরা দেখতে চাই। প্রয়োজনে অনেক সময় ওয়ার্ড কমিশনারদের ঠিকমতো পাওয়া যায় না, তাদের থেকে সেবা পেতে অনেক সময় লাগে। তাই আমাদের প্রত্যাশা থাকবে নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, যানজট নিরসন করা এবং সেবাকে সহজলভ্য করা। সেই সঙ্গে গণযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন একান্তভাবে কাম্য।
মোহাম্মদ শহীদউল্যা
হকভিলা, মেরাদিয়া, সিপাহীবাগ, ঢাকা
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ তথা সুষ্ঠু হবে এবং ভোটাররা প্রার্থীদের সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে ও বুঝে সত্, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীদের নির্বাচিত করবেন এটাই প্রথম প্রত্যাশা। ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, খাল দখলমুক্তকরণ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ করতে হবে। সিটি করপোরেশনে শক্তিশালী নগর পরিকল্পনা বিভাগ চালু ও পর্যায়ক্রমে সকল ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ দিতে হবে।
মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন
আমুয়া-৮৪৩১, ঝালকাঠি
ঢাকাকে আমরা বিশ্বের মধ্যে একটি উন্নততর রাজধানী হিসেবে দেখার প্রত্যাশা করছি। আগামীকাল ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হওয়ার জন্য ঢাকার নগরবাসীর ভোটারদেরকে আন্তরিকভাবে নির্ভয়ে ভোট প্রদান করার জন্য একান্তভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। কেননা এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ঢাকা কাঙ্ক্ষিত রাজধানী হিসেবে প্রস্ফুটিত হবে। সুতরাং দলমত নির্বিশেষে নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব যেন ভুলুণ্ঠিত না হয় এবং জনগণের কাঙ্ক্ষিত আধুনিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার ব্যত্যয় না হোক সেই প্রত্যাশা রইল।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী
হাউজিং এস্টেট, রাজশাহী-৬২০২
যানজট, পরিবেশ দূষণ, ছিনতাই, জলবদ্ধতা মুক্ত ঢাকা চাই। কথা নয়, কাজ চাই। সমস্যা কোথায় কম-বেশি আমরা সবাই জানি। তবুও রাজনৈতিক কারণে সমস্যাগুলো দূর হচ্ছে না। কারণ দলীয় লোকদের কারণে বেশি সমস্যা হয়। অপরাধমূলক কাজে তারা বেশি জড়িত হন। ঢাকার খালগুলো উদ্ধার করতে হবে। বুড়িগঙ্গাসহ সব নদী দখল,দূষণমুক্ত করা প্রয়োজন। মেয়র, কাউন্সিলর যারাই হন, তারা যেন পরিবেশ সচেতন থাকেন। পরিবেশবান্ধব কাজ করেন। এটাই প্রত্যাশা করছি।
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান,
মিরপুর, ঢাকা
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ঢাকাবাসী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে অনেক কিছুই প্রত্যাশা করে। তবে বিগত প্রতিনিধিদের থেকে প্রাপ্তির আশা অনেক ছিল, তারা প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি এমন অভিযোগ শোনা যায়। ঢাকার মেয়রের ক্ষমতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়ে থাকে, যার বেশির ভাগের মধ্যেই রয়েছে তার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে। ঢাকার প্রায় অর্ধশতাধিক সরকারি সেবা প্রদানকারী সংস্থাকে ঢাকার মেয়রের অধীনে আনার দাবি দীর্ঘদিনের। আবার কেউ একটি নগর সরকার গঠন করার কথাও বলছেন। একটি নতুন রাস্তা শেষ করার পর এক-দুই মাসের মধ্যে যখন নতুন করে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়, তখন নগরবাসীর ভোগান্তির অন্ত থাকে না। এর অবসান হওয়া দরকার।
মো. জিল্লুর রহমান
সতীশ সরকার রোড,
গেন্ডারিয়া, ঢাকা
ঢাকা আগে বায়ান্ন গলির তিপ্পান্ন খালে এবং মসজিদের শহর ছিল ঢাকা নগরী। মোগল সম্রাটের আমলে ঢাকা শহরের নাম হয় সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামে জাহাঙ্গীরনগর। পরবর্তীতে ঢাকার ঢাকের শব্দের কারণে নাম দেওয়া হয় ঢাকা। বহু পরিবর্তন এসেছে, বহু মেয়র বসেছে কিন্তু ঢাকা ক্রমেই উন্নতির বদলে নিম্নমুখী হয়েছে। ঢাকার প্রধান সমস্যা হলো, বিদ্যুত্, পানি, যানজট এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। তা ক্রমেই বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বিপুলসংখ্যক জনগণের আগমন ঘটছে ঢাকায়। বর্তমান সময়ে মেয়রদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে যে-ই মেয়র হন তিনি যেন সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় এসব বিষয়গুলো সমাধান করেন।
খন্দকার কামরুজ্জামান
৩৬৩/১০, উত্তর পীরের বাগ, মিরপুর,ঢাকা
ঢাকার সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দিকে আছে কি কারো মনোযোগ? আমার তা মনে হয় না! এ এক স্থবির শহর; ২০ মিনিটের পথ মানুষকে দুই ঘণ্টায় পাড়ি দিতে হয়। গাড়ি চলে না। তাই আমরা চলমান, আলোকিত আর গতিশীল ঢাকা চাই। দুর্নীতিমুক্ত আর সংকীর্ণ দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সিটি প্রশাসন চাই। তাই পরিবর্তন আনতে হবে। ঢাকাকে সুন্দর ও বসবাসযোগ্য করতে নতুন মেয়রকে নিরলস কাজ করে যেতে হবে। জ্ঞানীর বচনে পাই ‘ঘোড়ায় চড়ে রাজ্য জয় করা সহজ কিন্তু রাজ্য শাসন করতে হয় ঘোড়া থেকে নেমে, আর এটাই সব থেকে কঠিন কাজ।’ কেউ না কেউ তো এবারের নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে আসবেন, সেটা সহজ, কিন্তু আসল কাজ নির্বাচিত হওয়ার পর। মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা গগনচুম্বী। মাননীয় মেয়ররা কি পারবেন তা পূরণ করতে?
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর
স্বপ্নের ঢাকা আজ দুরাশায় পরিণত হয়েছে। নির্বাচন আসে নির্বাচন যায়। মেয়র ও কাউন্সিলর আসে মেয়র কাউন্সিলর যায়। কিন্তু ঢাকাবাসীর স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। ধূমকেতুর মতো উত্তর ঢাকার মেয়র হিসেবে ২০১৫ সালে ক্ষণজন্মা আনিসুল হকের আবির্ভাব ঘটে। তার আমলে মেয়র হিসেবে তার বিভিন্ন সাহসী পদক্ষেপ সমগ্র ঢাকাবাসীর মাঝে প্রবল আশার সঞ্চার করে। যারাই নির্বাচিত হবেন তারা তাদের দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঢাকাকে দূষণমুক্ত, ফুটপাতকে হকারমুক্ত, সদর রাস্তাগুলোর মোড় এবং বিশেষ বিশেষ স্পটগুলোকে অবৈধ বাসস্ট্যান্ডমুক্ত, ঢাকার রাস্তাঘাটের মালিকানা ও কাটা-ছেঁড়া নিয়ে কম-বেশি ৫৬ সংস্থার ট্যাগ অফ ওয়্যারকে সমন্বয় করে উন্নয়ন কাজকে বিশৃঙ্খলামুক্ত, মহাখালী আন্তঃনগর বাসস্ট্যান্ড এবং মহাখালী মোড়ের মতো করে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এবং গুলিস্তান মোড়কে বিশৃঙ্খলা ও যানজটমুক্ত করে বুড়িগঙ্গা থেকে তুরাগ নদীর পাড় পর্যন্ত উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত ঢাকাকে তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করবেন এই প্রত্যাশাই করি।
ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
চৌমুহনী, হাজীপুর (আরমান ভূঁইয়ার বাড়ি), বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
প্রত্যাহিক জীবনে চাওয়া এবং পাওয়ার শেষ নাই, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছেও অনেক প্রত্যাশা ঢাকায় বসবাসকারীসহ দৈনিক যারা ঢাকায় আসা যাওয়া করেন, যেমন যানজট মুক্ত, মাদক মুক্ত, যত্রতত্র যাত্রী নামানো উঠানো বন্ধ, ছিনতাই বন্ধ, প্রবাসীরা দেশে আসা যাওয়ায় বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, ময়লা পরিবহনে উন্নত ব্যবস্থা, নারীবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলা, জলাশয় উন্মুক্ত করে পরিবেশবান্ধব তৈরি করা, পলিটিক্যাল পাওয়ার না দেখিয়ে জনবান্ধব হওয়া, যেহেতু অধিকসংখ্যক মানুষ প্রয়োজনে ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকে, ভাড়া নির্ধারণে সঠিক ভূমিকা পালন করা, অটোরিকশা বন্ধ করা, ঢাকার রাস্তায় যেসব রিকশা চলে তার তালিকা তৈরি করে একটি নিয়মে আনা, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গাড়িচালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ঢাকা শহরকে সিসি ক্যামেরায় অওতাভুক্ত করা, এলাকাভিত্তিক পারিবারিক কাউন্সিলিং করা, নাগরিক প্রয়োজনীয় সেবাসমূহ এলাকাভিত্তিক করা, শব্দদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। নির্বাচন পরবর্তী কোনো সহিংস না ঘটুক এ প্র্যতাশায়।
মো. ফিরোজ আহম্মেদ
মিরপুর সেকশন-৬, ঢাকা
ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার সুবাদে বিশ্বদরবারে ঢাকার নাম অত্যন্ত পরিচিত। তবে আমরা চাই সুপরিচিতি হিসেবেই খ্যাতি লাভ করুক ঢাকা। এর জন্য চাই তালিকার শীর্ষে থাকা বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণমুক্ত পরিচ্ছন্ন ঢাকা। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুত্ ও পানি সরবরাহসহ যানজটমুক্ত নিরাপদ ঢাকা। জলাবদ্ধতা ও সন্ত্রাসমুক্ত ঢাকা। শুধু বড়ো লোকের ঢাকা নয়, সবার জন্য বাসযোগ্য সমতাভিত্তিক ঢাকা চাই। আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের কাছে এটাই আমার প্রত্যাশা।
উবাইদুল্লাহ তারানগরী
দুধনই, ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ
আগামীকাল ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই নির্বাচন ঘিরে চলছে নানা রকম ডামাডোল। এ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীরা প্রচার/প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, দিয়েছেন বিভিন্ন রকম নির্বাচনী ইশতেহার। আমাদের সবার প্রত্যাশা ঐ দুটি নির্বাচন যেন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়। অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই আমরা। যিনিই নির্বাচিত হোন না কেন, উন্নয়ন যেন থেমে না যায়, মানুষের মৌলিক বিষয়গুলো যেন নজরে আনা হয়।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ
স্টেডিয়াম সড়ক, সদর, ফেনী
ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকায়নের পথে বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার প্রত্যয় প্রতিশ্রুতির মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত, প্রাতিষ্ঠানিক সেবা প্রদান, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ার কাজ করা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার রক্ষা ইত্যাদি বিষয়গুলো সামনে এনে বাস্তবায়ন করাই হবে আমাদের সবার প্রত্যাশা।
পারভীন সুলতানা
রামচন্দ্রপুর, শৈলকুপা,
ঝিনাইদহ
আসন্ন দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে, ঢাকা নগরীর অসহনীয় যানজট ও ২ কোটি ভ্রমণকারীর কর্মঘণ্টার অপচয় দূর করতে গণপরিবহনের সংকট দূর করতে হবে। বৃহত্ নগরী ঢাকা অনেকগুলো অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত, ফলে দীর্ঘ ও স্বল্প চলাচলের গণপরিবহন পৃথক করা হলে যাত্রীসংখ্যার চাপ কমে আসবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি দায়িত্বের ভিত্তিতে অঞ্চলভিত্তিক চক্রাকার বাসসেবা চালু করা দরকার।
আজাদ/মনজু
উত্তরা, ঢাকা
আবারও নির্বাচনী জ্বরে কাঁপছে বাংলাদেশ। নির্বাচন ঢাকাতে। রাজধানী বলে কথা। ঢাকার নির্বাচনী উত্তাপ তাই ছড়াচ্ছে ঢাকার গন্ডি পেরিয়ে সারাদেশে। আমরা চাই, এমন মেয়র নির্বাচিত হোক, যিনি দুর্নীতিমুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক সেবা প্রদানে গতিশীল কার্যক্রম চালাবে। চাই, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ার জন্য কাজ। পাশাপাশি চাই, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সম্মিলনে মাদক, যানজট, দূষণ, মশা ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগর। সর্বোপরি নগরপিতা হবে জনগণের একনিষ্ঠ সেবক। নিত্যপণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার আওতায় থাকবে—এটাও আশা করছি।
আবদুর রহমান জামী
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
