রবিবার শুরু হচ্ছে বইপ্রিয় মানুষের প্রাণের মেলা ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত এই মেলা উদ্বোধন করবেন। এবারের বইমেলা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে তার স্মৃতির প্রতি উত্সর্গ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষকে সামনে রেখে বাংলা একাডেমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ২৬টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। এরমধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা তৃতীয় গ্রন্থ ‘আমার দেখা নয়াচীন’। বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ এরই মধ্যে গুছিয়ে উঠেছে। বেশিরভাগ স্টল নির্মাণ শেষ পর্যায়ে। এবারের মেলা অন্য যে কোনোবারের তুলনায় দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। বিশাল এলাকা জুড়ে পাঠকের চলাচলের সুবিধার কথা মাথায় রেখে করা হয়েছে স্টল বিন্যাস। মেলার ভেতরে চলাচলের পথগুলোও বেশ প্রশস্ত। ফলে একটা ভালো মেলা আয়োজন করে মানুষের সামনে উপস্থিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। ‘লিটল ম্যাগ’ চত্বর এবার নিয়ে আসা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে।
এ উপলক্ষ্যে গতকাল বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী গ্রন্থমেলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অমর একুশে গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ, বিকাশ লিমিটেড-এর সিএমও মীর নওবত আলী এবং ক্রসওয়াক কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মারুফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা কবি পিয়াস মজিদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিদিন মেলা শুরু হবে বিকাল তিনটায়। চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত। তাছাড়া প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার মেলা বেলা ১১টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলবে। সেইসঙ্গে প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার শিশুপ্রহর থাকবে বেলা ১১টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত।
গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০১৯ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ২০১৯ গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এছাড়া ২০১৯ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য ১টি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং এ-বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা : গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বাইরের মোট ৬টি পথ থাকবে। বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমির ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। গ্রন্থমেলার প্রবেশ ও বাইরপথে হওয়ার পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের নিরাপত্তাকর্মীবৃন্দ। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলায় এলাকাজুড়ে ৩ শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
