দিনভর ভোট চাইলেন তাপস ও আতিক

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৫৩

উন্নত ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উত্সবমুখর পরিবেশে নির্বাচনি প্রচার শেষ করেছে আওয়ামী লীগ। পথসভা, মিছিল, স্লোগান, গণসংযোগ করে ভোটারদের মন জয়ের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিয়ে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মধ্যরাত মাঠ গরম করে রেখেছিলেন নৌকার দুই মেয়র প্রার্থী ও তাদের কর্মীসমর্থকরা। নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিন গতকাল যেন মিছিলের নগরীতে পরিণত হয় রাজধানী। প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডে দিনভর নৌকার পক্ষে খণ্ড খণ্ড অসংখ্য মিছিল বের করা হয়। এসব মিছিলে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। আওয়ামী লীগ মহানগর নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতারাও আচরণবিধি মেনে মাঠে নামেন। নির্বাচনি গান, মাইকিংয়ের সঙ্গে পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে যাওয়া ঢাকা এখন উত্সবের নগরী। নির্বাচন ঘিরে পাড়া-মহল্লায় বিরাজ করছে উত্সবের আমেজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও জমে উঠে নৌকার ভোটের লড়াই। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল রাজপথে ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সরব উপস্থিতি। প্রার্থীদের পক্ষে মিছিল স্লোগানে মুখরিত ছিল মহানগরী। প্রচারে নেমে নৌকার দুই মেয়র প্রার্থী ভোট, দোয়া ও সমর্থন চান। যাকে কাছে পেয়েছেন বুকে টেনে নেন। গোপীবাগে সংঘর্ষে গুলির ঘটনায় অস্ত্রসহ এক বিএনপিকর্মীকে গ্রেফতারের কথা তুলে ধরে দক্ষিণে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ভোটের দিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৭০টি কেন্দ্র দখলের ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি। শনিবার ভোট সামনে রেখে প্রচারের শেষ দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপীবাগ এলাকায় গণসংযোগ শুরু করার আগে এক পথসভায় এ অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকলে নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিপক্ষ নৌকার গণজোয়ার দেখে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। তাদের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। কোনো অপশক্তি আমাদের নৌকার এই গণজোয়ারকে থামিয়ে রাখতে পারবে না। বৃহস্পতিবার ভাষানটেক এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা প্রতিহত করবে ঢাকাবাসী : তাপস

গতকাল একাধিক স্থানে প্রচারণায় নেমে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমি লক্ষ করেছি যে, বিএনপি প্রার্থীর পিএস হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি যিনি সেদিন গোলাগুলি করেছেন অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি ছুড়েছেন, সেই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এইভাবে সন্ত্রাসীরা যদি কোনো ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করে তাহলে ভোটাররাসহ ঢাকাবাসী সেটা প্রতিহত করবে।’  নির্বাচন ঘিরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে ঢাকাবাসীকে পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তাপস বলেন, ‘আমরা কিছুটা শঙ্কিত, যদিও আমি আশা করব সকল ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হবেন এবং তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন। কয়েক দিন আগে আমরা অত্র এলাকায় দেখেছি যে, আমাদের কাউন্সিলর প্রার্থী রোকনউদ্দিনের ক্যাম্পে সেখানে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নিজে উপস্থিত হয়ে আক্রমণ করেছেন। আমরা এটাও খবর পেয়েছি, ১৭০টি কেন্দ্র দখলের একটা ষড়যন্ত্র ও পাঁয়তারা হচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করব যাতে তারা আশু পদক্ষেপ নেয়, যাতে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে। আমি বিশ্বাস করি, সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকলে নৌকার বিপুল ভোটে বিজয় হবে।’

প্রত্যেক কর্মীকে ২০০ ভোটার নিয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান আতিকুলের

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম নেতাকর্মীদের ২০০ জন করে ভোটার নিয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানীর নতুনবাজার এলাকায় পথসভায় তিনি এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আর এক দিন বাকি আছে। সবাই সবাইকে ফোন করুন, প্রতিজ্ঞা করুন, প্রত্যেকে আমরা ২০০ ভোটার নিয়ে আসব। নৌকাকে বিজয়ী করুন। সকালবেলা নৌকাকে জয়ী করুন, বিকালে জয়ের মিছিল করব, ইনশাল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘গত নয়টি মাস আমরা চেষ্টা করেছি। শুধু ঢাকা শহর নয়, এই নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের উন্নয়নে কাজ করেছি। এই এলাকার অলি-গলিতে একটু বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। এখানে রাস্তা হয়েছে কিন্তু ড্রেন হয়নি। আমাদের এই ১৮টি ওয়ার্ডের জন্য ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকার ফাইল প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।’ আতিকুল ইসলাম বলেন, গত ২০ দিন ঢাকা উত্তরের ৫৪টি ওয়ার্ডে ঘুরেছি। বেশির ভাগ জায়গায় গিয়েছি। অনেক জায়গায় যেতে পারিনি। কয়েক দিন ধরে ঘুরে দেখেছি এক এলাকার সমস্যার সঙ্গে আরেক এলাকার সমস্যার মিল নেই। ঘুরে ঘুরে প্রতিটি এলাকার সমস্যা আলাদা করে লিপিবদ্ধ করেছি। নির্বাচনে জয়ী হলে প্রতিটি এলাকার সমস্যা ধরে ধরে সমাধান করা হবে।