যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের বই প্রকাশে ট্রাম্প প্রশাসন বাধা দিচ্ছে এমন অভিযোগ ওঠার পর পিছু হটল হোয়াইট হাউস। তবে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল বলেছে, প্রকাশ না হওয়া বইটিতে অতি গোপনীয় বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এগুলো অবশ্যই বাদ দিতে হবে। বোল্টন এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।
মার্কিন সিনেটে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন বিচার চলার মধ্যেই বোল্টনের অপ্রকাশিত বইয়ের পাণ্ডুলিপি থেকে কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। যেখানে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাজনৈতিক সহায়তা পাওয়ার বিনিময়ে ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ সামরিক সহায়তাকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সিনেটে যে অভিশংসন বিচার চলছে তার মূলেই রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইউক্রেনের ওপর চাপ প্রয়োগ।
এদিকে সিনেটের বিচারে নতুন সাক্ষী আনা হবে কি না এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর আজ শুক্রবার ভোট দেবেন সিনেটররা। রিপাবলিকান সিনেটরদের অনেকেই বলছেন, নতুন করে সাক্ষী আনার প্রস্তাব আটকে দেওয়ার মতো ভোট তাদের হাতে রয়েছে। তবে বোল্টনের বইয়ের তথ্য সামনে আসার পর কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর জানিয়েছেন, বোল্টনের বক্তব্য শোনা জরুরি। সিনেটে বোল্টনকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করতে হলে প্রস্তাবে কমপক্ষে ৫১ সিনেটরের সমর্থন লাগবে। সেক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ৪৭ সিনেটের সঙ্গে অন্তত চারজন রিপাবলিকান সিনেটরকে ভোট দিতে হবে। এদিকে সিনেটে সাক্ষী আনার প্রস্তাব বাতিল হলে দ্রুতই আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্টর ওপর ভোটাভুটি হতে পারে।
বিচারের চূড়ান্ত পর্যায়ে ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করে পদ থেকে অপসারিত করতে ৬৭ সিনেটরের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে সিনেটে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের ৫৩ জন সিনেটর রয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের আছে ৪৫ আর দুইজন সিনেটর হলেন স্বতন্ত্র। এ অবস্থায় ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরানোর সম্ভাবনা খুবই কম।
অন্যদিকে বইয়ের ব্যাপারে বোল্টনের আইনজীবীকে লেখা এক চিঠিতে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ পরিচালক এলিন নাইট বলেছেন, প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে- পাণ্ডুলিপিতে উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে ‘ক্লাসিফাইড’ তথ্য রয়েছে। যার মধ্যে ‘টপ সিক্রেট’ পর্যায়েরও তথ্য রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এসব ক্লাসিফাইড তথ্য বাদ দেওয়ার আগ পর্যন্ত বইটি প্রকাশিত নাও হতে পারে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা বলেন, এই চিঠি কোনো হুমকি নয়। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বইয়ের পাণ্ডুলিপির তথ্য প্রকাশের কারণে অভিশংসন বিচারে ট্রাম্পের আত্মপক্ষ সমর্থন বিপদের মুখে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার বোল্টনের সমালোচনা করে বলেছেন, এই বই জঘন্য এবং অসত্য।
