লুনা ও চাঁদের প্রার্থিতা স্থগিতে হতাশ বিএনপি নেতাকর্মীরা

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০৮

সিলেট ২ ও রাজশাহী ৬ আসন

ইত্তেফাক ডেস্ক

সিলেট-২ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা এবং রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদের প্রার্থিতা উচ্চ আদালতে স্থগিত হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। খবর আমাদের অফিসগুলোর।

সিলেটঃ লুনার প্রার্থিতা আটকে যাওয়ায় সেখানকার বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে এক ধরনের নিরবতা। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের নেতা-কর্মীদের এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ আসনে লুনার বিকল্প বিএনপি জোটের কে হচ্ছেন-এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। সূত্র জানায়, সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার লুনার প্রার্থিতা স্থগিত রাখার বিষয়ে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। অবশ্য লুনার আইনজীবীরা এ বিষয়ে রিভিউর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সিলেটের বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসনে এবার বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন তাহসিনা রুশদীর লুনা। তার প্রার্থিতার বিষয়ে একই আসনে মহাজোটের প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া হাইকোর্টে রিট করেন। এই আসনে লুনা ছাড়াও জাতীয় পার্টির ইয়াহইয়া চৌধুরী (লাঙ্গল), খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী (দেওয়াল ঘড়ি), গণফোরামের মুকাব্বির খান (উদীয়মান সূর্য), স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বিশ্বনাথের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান (ডাব) ও ইমরান আহমদ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. এনামুল হক সর্দার (সিংহ), ইসলামী আন্দোলনের মো. আমির উদ্দিন (হাত পাখা), এনপিপির মনোয়ার হোসাইন (আম) ও বিএনএফ এর মোশাহিদ খান (টেলিভিশন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

লুনার প্রার্থিতা আটকে যাওয়ায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ও ঐক্যফ্রন্টের সমর্থন আদায়ে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে খেলাফত মজলিস। গত মঙ্গলবার দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সাক্ষাত্কালে তারা আসনটিতে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীকে সমর্থন দিতে তার সহযোগিতা কামনা করেন। এ ব্যাপারে মির্জা ফখরুল সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

বিশ্বনাথের কয়েকজন ভোটার জানান, লুনার প্রার্থিতা আটকে যাওয়ায় ওই আসনের নির্বাচনী আমেজ অনেকটা ম্লান হয়ে গেছে। মাঠে নেই বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এদিকে মহাজোটের প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন জাতীয় পার্টির ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া। কিন্তু, স্থানীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের অনুসারীরা অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান বা অধ্যক্ষ এনামুল হক সরদারের পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সমর্থন চলে আসলে ভোটের হিসাব পাল্টে যাবে। কারণ এই দুই প্রার্থী মূলত আওয়ামী ঘরানার।

রাজশাহীঃ রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহরিয়ার আলমের উন্নয়নের প্রচারে বিএনপি প্রার্থী, কারাবন্দি আবু সাঈদ চাঁদ অনেকটাই কোণঠাসা। কারণ রাজশাহী জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা কেউ তার পাশে নেই। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় চাঁদের পক্ষে বিএনপির কোনো নির্বাচনী কমিটি গঠিত হয়নি। ফলে ভোটের মাঠে চাঁদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন চাঁদের ছোট ভাই, পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজার কমিটির সভাপতি আজিজুল বারী মুক্তা ও চাঁদের ছেলে রাকিবুল হাসান অলিভ। তারা প্রচারণা চালালেও ভোটের ময়দানে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী শাহরিয়ার আলম। এদিকে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের আদেশে যে ৯ জন উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রাজশাহী-৬ আসনের আবু সাঈদ চাঁদও রয়েছেন। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ চাঁদের ছোট ভাই আজিজুল বারী মুক্তাকে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। এ খবরে চারঘাট ও বাঘা উপজেলার বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা চরম হতাশ হয়েছেন।

রাজশাহী-৫ আসনে প্রার্থী জটিলতায় বিএনপি

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. মনসুর রহমানের প্রচারণা এখন তুঙ্গে। বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রতিদিন ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে নৌকার লিফলেট নিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের কর্মীরা।

জানা যায়, এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারতো বিএনপি। কিন্তু দলীয় কোন্দল ও প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আইনি জটিলতায় শেষ সময়ে ভোটের মাঠে নিষ্ক্রিয় বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। প্রার্থিতা নিয়ে বিভক্তি থাকায় ভোটের প্রচারণা ফেলে ধানের শীষ পেতে দুই বিএনপি নেতা বর্তমানে উচ্চ আদালতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। তবে পিছিয়ে নেই ছোট দলের প্রার্থীরা। নিজেদের নিশ্চিত পরাজয় জেনেও ভোটের মাঠে প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন তারা। অন্যদিকে বিএনপি এ আসনে ভোটের প্রচারণায় নেই বললেই চলে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এ আসনে বিএনপি চারজনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। যাচাই-বাছা ইয়ে মূল প্রার্থী নাদিম মোস্তফাসহ দুইজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়। আপিল শুনানি শেষের একদিন আগে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল। তিনি চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি গত ৯ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমাও দেন। কিন্তু আপিল শুনানির শেষ দিন নাদিম মোস্তফার প্রার্থিতা বৈধ হলে বিএনপি চূড়ান্ত মনোনয়ন পরিবর্তন করে নাদিম মোস্তফাকে চিঠি দেয়। ১০ ডিসেম্বর দলীয় প্রতীক নিয়ে নাদিম মোস্তফা প্রচারণাও শুরু করেন। কিন্তু গত ১২ ডিসেম্বর অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল রিট করেন। গত ১৮ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত অধ্যাপক নজরুল ইসলামের পক্ষে রায় দেন। তাকে (নজরুল মন্ডল) দলীয় প্রতীক দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ এবং নাদিম মোস্তফার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এ খবর নির্বাচনী এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ভোটের মাঠে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

এদিকে উচ্চ আদালতের রায়ের কপি এখনও হাতে পাননি  বলে জানান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল। ফলে তিনি দলীয় প্রতীক পাননি। এ ব্যাপারে নাদিম মোস্তফা বলেন, শিগগিরই আপিল করবো। আপিলে রায়টি স্থগিত হলে তিনিই প্রার্থী থাকবেন।’