ঠাট্টার ফেসবুক গ্রুপে আমরা আপনাদের সামনে একটা প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলাম—
পাওনাদারকে হঠাত্ চোখের সামনে দেখলে আপনি কী করেন?
সংক্ষেপে (দু লাইনে) এর মজার উত্তর কমেন্টে লিখতে বলা হয়েছিল। আপনাদের করা কমেন্টগুলোর ভেতর থেকে বাছাইকৃত কমেন্টগুলো ঠাট্টায় প্রকাশ করা হলো।
এ সংখ্যার সেরা কমেন্টকারী মো. রাহাত হোসাইন। অভিনন্দন আপনাকে। আপনি পাবেন বিশেষ পুরস্কার বই।
বাছাইকৃত কমেন্ট
v ভাই, আপনাকেই খুঁজছিলাম, পেয়ে ভালোই হলো! আরো সামান্য কিছু টাকার দরকার, দিলে খুব উপকার হয়।
g আপন অপু
v তার কথা বলা শুরুর আগেই আমি বলি, ‘ভাই আপনি আগামীকাল বাসায় থাকবেন? টাকাটা বাসায় পৌঁছে দিতাম’। সেই আগামীকাল আর আসে না।
g আল মামুন সানি
v কেটে পড়ার জন্য হিসু করতে বসব!
g মো. মোস্তাকিম ইসলাম
v তখন চটজলদি বউয়ের জন্য নতুন কেনা ভ্যানিশিং ক্রিম গায়ে মেখে পরিপার্শ্বের সঙ্গে ভ্যানিস তথা অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার উপায় খুঁজি! নয়তো হে ধরণী তুমি দ্বিধা হও, আর আমি তাতে... (ফাঁপরে আছি!?!)
g অর্পণ দাশগুপ্ত
v কেমন আছেন ভাই? কিছু টাকা পাবেন কালকে দিয়ে দিবানে ভাই। সমস্যা নাই, কালকে যাওয়ার পথে দিয়ে যাবানে।
g মো. সম্রাট শাহ
v আরে ভাই আপনি সেই লোক না যার থেকে আমার ভাই টাকা নিছে?
g মো. রাহাত হোসাইন
v ফোন কানে দিয়ে এমন একটা ভাবে কথা বলা শুরু করি যেন ডোনাল্ড ট্রাম্প আমার কাছে পরামর্শ চাচ্ছেন। পাওনাদার আড়ালে যাওয়া পযর্ন্ত এ কথা চলতে থাকে!
g শানু খান
v ভাই সাব আমার অবিবাহিত সুন্দরী শ্যালিকা আতরি বেগম নিজ দায়িত্বে আপনার মোবাইল নাম্বারটা অতি জরুরি ভিত্তিতে চাইতাছে!
g মোহাম্মদ আলী জনি
v শুনলাম, শ্বশুরবাড়ির লোকজন নাকি বেশ জ্বালাচ্ছে! আমার কাছে ভালো একজন কবিরাজের ঠিকানা আছে, এক তাবিজেই কিসসা খতম; দিব নাকি?
g আরাফাত তন্ময়
v আপনার কাছেই যাচ্ছিলাম, দেখা হয়ে ভালোই হলো। আর পাঁচশত টাকা দরকার, পাঁচশত টাকার জন্য ব্যাংক থেকে দশ হাজার টাকা তুলতে পারছি না।
g মাজেদুল ইসলাম কাওসার
v আসেন ভাই আগে চা খাই! ভাই আপনি চা খেতে থাকেন, আমি একটু ছোট ঘরে যাব আর আসব!
g মাজেদুল হক মিলন
v ট্যাকাটা দিলে দ্যান, না দিলি পরে ফেসবুকে স্ট্যাস্টাস দিবা নে!
g মোহাম্মদ অংকন
v আরে ভাই কয়েকদিন ধরে আপনাকে খুঁজলাম পেলাম না আপনার পাওনাটা ঘরে থাকতে থাকতে একজন ধার নিয়ে গেল, চিন্তা করবেন না ফেব্রুয়ারি মাসের ৩০ তারিখ কথার নড়চড় হলে ৩১ তারিখ অবশ্যই টাকাটা পেয়ে যাবেন।
g জেলী আক্তার
v এই যে জনাব, ভিতরে এসে বসুন!
টাকা দিয়ে কিনেছি পেঁয়াজ-রসুন।
g শফিক শাহরিয়ার
v চোখ সরিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ব। নতুবা পা সরিয়ে দৌড়ে পালাব।
g নীরব চন্দন
v একটু ধমকের সুরে, ‘কীরে ভাই, পরশুদিন কতগুলো কল দিলাম, ফোন অফ। সিম চেঞ্জ করেছেন জানাবেন তো, টাকাটা রেখে পরে আজ সকালে পেঁয়াজ কিনে ফেলেছি। (ব্যাকআপ হিসেবে প্রতি দুই দিন পর পর উনার নম্বরে পরপর কয়েকটা কল দিয়ে ঢোকার আগে কেটে দেব)
g তানভীর আহাম্মেদ
v দেখেন না ভাই, আজ ময়নার বাপের সঙ্গে দেখা হলো, টাকা কিছু পাবে আরকি। সারাদিন খুঁজে আজ একদম ঠাডাই কানপট্টিতে থাপ্পড় দিলাম। কন তো আমি কি তারে টাকা না দিয়া চইলা যামু? এত খোঁজার কী আছে! মানুষও না একদম জোচ্চর। আপনিও তো কিছু টাকা পাবেন। কই আপনি তো এমন করেন না। ঠিক না?
g বাসু দেব নাথ
v আপনি পাবেন বিশ হাজার, কিন্তু আপনার জন্য এক লাখ টাকার একটা চেক রেখেছি। দেওয়ার সময় পাচ্ছি না কেবল!
g শফিক হাসান
v তার হাতে ঠাট্টার সংখ্যা ধরিয়ে দেব। ব্যাটা হাসতে হাসতে পাওনা টাকা চাওয়ার কথা ভুলেই যাবে।
g আমজাদ হোসনে বাপ্পী
v জ্ঞান হারানোর ভান ধরব। পাওনাদার মৃত ভেবে পালিয়ে যাবে।
g রায়হান ফেরদৌস
v ওরে! ভাই আপনি তো আমার কাছে টাকা পাবেন, দেখেছেন একদমই ভুলে গিয়েছি। আচ্ছা আপনার বিকাশ নাম্বারটা দিন তো আমি আজকে বিকেলেই টাকাটা পাঠিয়ে দেব।
g খাদিজা তুল কোবরা টুম্পা
v ভাই গতকাল চেকটা হাতে পাইছি আগামীকালের ডেটে, টাকাটা তুলেই ভাবির হাতে এক কাপ চা খেতে চলে যাব।
g লুত্ফর রহমান রবি
v দোলন ভাই, পাওনা ৫০০ টাকা দেওয়ার জন্য আপনাকে খুঁজতে খুঁজতে হয়রান! আপনি এখানেই একটু দাঁড়ান আমি ১০০০ টাকা ভাংতি নিয়ে আসি!
g পংকজ শীল
v অজ্ঞান হওয়ার ভান করি, তারপর পাওনাদার আমাকে রিকশায় করে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসে
g শুভ দেবনাথ
v আরে ভাই আর বলিয়েন না, আয়নার মারে দিয়ে গেলাম হরমুজ ভাইকে টাকাটা দিয়ে আসিও। কিন্তু ভুলে তরমুজ কিনে এনেছে!
g জহির টিয়া
v পাওনাদার সামনে দেখলে হাসিমুখে বলি, ‘ভাইজান, আপনাকে নিয়ে একটা ভিডিও বানাতে চাই। ইউটিউবে ছেড়ে দেব। কয়েকদিনের মধ্যেই আপনি ভাইরাল হয়ে যাবেন।’
পাওনাদার খুশিতে পাওনা টাকার কথা ভুলে যায় আর আমিও দ্রুত সেখান থেকে কেটে পড়ি।
g কাজী মারুফ
v পাওনা টাকা ফিরিয়ে দিলেই আপনার ভাবির মুখে ডেইলি আপনার প্রশংসা শুনতে পাব না। এইটা ভেবেই টাকাগুলো দিতে পারছি না, ভাই! বাড়ি চলেন, আজ টাকা নিয়েই যাবেন...
g কাওসার আহমেদ নাঈম
v তাড়াহুড়ো করে হেঁটে যাই। আর বলি মেডিকেলে যাচ্ছি। আমার বউ (স্ত্রী) মেডিকেলে ভর্তি। টেলিফোনে কথা হবে!
g ওয়াহিদ ওয়াসেক
v পাওনাদার সামনে পড়ে গেলে একদম সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলি, ‘বেঁচে থাকতে আর ইচ্ছে করে না ভাই! এত অভাব, কখন যে হতাশায় সিলিং ফ্যানে ঝুলে যাব—সেটাই ভাবছি!’
টাকা চাইবে কী, উল্টো দু-এক শ ধরিয়ে দিয়ে যায়!
g শিমুল শাহীন
v ‘তেল মালিশ করব, হাওয়া দেওয়া শুরু করে দেব!
কারণ বাংলাদেশে তেল, হাওয়া ও বাঁশ—এই তিন থেরাপির ওপর আর কোনো ওষুধ নাই!’
g শিপন আহমেদ হিমেল
v আমি কিছু করি না। তারাই বরং আমাকে দেখে উল্টো পথে হাঁটে। টাকা তো দেব না, উল্টো যদি টাকা চাই, এই ভয়ে!
g মুহা. তাজুল ইসলাম
v দাঁতে দাঁত লাগিয়ে অজ্ঞান হয়ে শুয়ে পড়ি! যা খোলার ভয়ে পাওনাদারের বাপও উল্টা পথে হাঁটা শুরু করবে!
g ওহাব ওহী
v ফোনটা কানে লাগিয়ে কাঁদতে শুরু করব। ‘আল্লারে... কী হইল রে, কী কইরা এই সর্বনাশ হইল রে...।’ আমার এ অবস্থায় সে আর টাকা খোঁজার কথা ভাবতে পারবে?
g ইউনুস আলি
