লেখকের প্রতিশ্রুতি!

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:৫২

 

/ মো. ফেরদৌস আহাদি

আমাদের দৈনন্দিন জীবনটা চলে শুধু প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে। সকাল সাতটার আগে উঠতে পারলে পাঁচ টাকা দেওয়া হবে—বাবার প্রতিশ্রুতি। আজ রাত দশটা পর্যন্ত পড়াশোনা করলে নুডুলস রান্না করে খেতে দেওয়া হবে—মায়ের প্রতিশ্রুতি। এ বছর নির্বাচনে পাস করতে পারলে সকলের জন্য একটি করে গার্লফ্রেন্ড জুটিয়ে দেওয়া হবে—নির্বাচনি প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি। সবাই শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়ে যায়। শেষ পর্যায়ে কোনো প্রতিশ্রুতিরই ফলাফল আসে না। এবার এলো একজন লেখকের প্রতিশ্রুতি। জেনে নিন লেখক কেমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন

K আপনি পরীক্ষায় ভালো রেজান্ট করতে পারছেন না। সঙ্গীরা ‘এ’ প্লাস পেয়ে ফেসবুক সেলিব্রিটি হয়ে পড়ছে। তাহলে আজই বইমেলায় গিয়ে এই বইটি কিনুন। ইনশাআল্লাহ ভালো রেজান্ট নয় আপনিও ‘এ’ প্লাস পাবেন।

K আপনার পরিবারে সারাক্ষণ ঝগড়া লেগে থাকে। ঝগড়ায় আপনি অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। আর দেরি না করে আজই আমার এই বইটি কিনুন। সব ঝগড়ার সমাধান পাবেন।

K চাকরি পাচ্ছেন না। বারবার ভাইবা বোর্ডে গিয়ে আটকে পড়েন। চাকরি না পাওয়ার কারণে সমাজে মুখ দেখাতে পারছেন না। সমাজে মুখ দেখানো তো বড়ো ব্যাপার না। তার চেয়ে বড়ো ব্যাপার হলো ফেসবুকে স্বাধীনভাবে কোনো পোস্ট করতে পারছেন না—চাকরি না থাকার জন্য। তাহলে আজই আমার এই বইটি কিনুন। পড়ার এক সপ্তাহের মধ্যে চাকরি পেয়ে যাবেন।

K আপনার বন্ধু-বান্ধব সবাই একের পর এক প্রেম করে যাচ্ছে। কিন্তু আপনি এখন পর্যন্ত একটি প্রেমও করতে পারেননি। তবে আমার এই বইটি কিনুন। ইনশাআল্লাহ পড়ার তিন দিনের মধ্যে রমণীরা আপনার পাশে ঘুরঘুর করবে।

K আপনি দাম্পত্যজীবনে অসুখী। খুবই জ্বালা যন্ত্রণায় ভুগছেন। সকাল বিকাল যন্ত্রণা আপনাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না। সুখী হতে চাইলে, তবে আজই আমার এই বইটি কিনুন।

K আপনি ব্যবসা-বাণিজ্য করে কোনোভাবেই লাভবান হতে পারছেন না। দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করছেন। কোনো কাজ হচ্ছে না। তাহলে আজই আমার এই বইটি কিনুন।

K রাতে ঘুমানোর পর চক্ষে দেখেন না। খাইলে ক্ষুধা লাগে। আর না খাইলে নিজের কাছে রোজা রোজা লাগে। তবে আজই বই মেলায় গিয়ে আমার এই বইটি কিনুন। আর সহজে পেয়ে যান আপনার সমস্যার সমাধান।

K ফেসবুকে আপনার ফলোয়ার সংখ্যা কম, পোস্ট করলে লাইক, কমেন্ট কেউ দেয় না। আর শেয়ার তো দূরের কথা। তাহলে আজই এত নং স্টলে গিয়ে আমার এই বইটি কিনে আনুন। আর হাত ঘড়ি দেখে এক ঘণ্টা পড়ুন। তারপর নিয়ম অনুযায়ী ফেসবুক লগিং করুণ। দেখবেন লাইক, কমেন্ট, ফ্যান, ফলোয়ার রাতারাতি বেড়ে গেছে।

K দিনে ঘুম হয় না। চোখের সামনে শুধু হিমালয় দেখেন। স্বপ্নে দেখেন আমেরিকায় আছেন। ঘুম থেকে উঠে দেখেন গুলিস্তান মোড়ে দাঁড়িয়ে জুতা দামাদামি করছেন। এরকমটা হয়েই থাকে। তবে আজই আমার লেখা এই বইটি কিনে আনুন। সমস্যা কোনো ব্যাপার না, সমাধানটাই আসল ব্যাপার।

K শতজনের শতটা মোটিভেশন ভিডিও দেখেছেন। শত মুনীষীর জীবনী পড়ছেন তবুও বইয়ে মন বসে না। বালিশের কাছে বই রেখে ঘুমান। যাতে করে বইয়ের প্রতি আমার আকর্ষণ বাড়ে। তবুও এক পার্সেন্ট কাজও হচ্ছে না। তাহলে আর দেরী না করে আজই আমার এই বইটি কিনে আনুন। আর ঝটপট পড়ে টেবিলে বসে পড়ুন।

নিকলী, কিশোরগঞ্জ