/ পাভেল হোসাইন ইমরান
বিয়ে বাড়ির দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফিরছিল মিসেস সামিহা ও তার ছোট বোন মিস লামিয়া। একটা রিকশায় প্লাস সাইজের মিসেস সামিহার পাশে, জিরো ফিগারের মিস লামিয়া কোনো রকম ঠাসাঠাসি করে বসে ছিল। বেচারা রিকশাওয়ালার অবস্থা একেবারে হালুয়া টাইট। স্লিম ফিগার নিয়ে তার এই রিকশা টানতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল। শীতের দিনেও তার কপালে ঘাম। বোঝেন তাহলে ব্যাপারটা কত বেশি সিরিয়াস!
এসব দেখার সময় আছে কার! মিসেস সামিহা ব্যস্ত মিস লামিয়ার সঙ্গে গুরুতর এক আলোচনা নিয়ে।
—রতনের কপালডা পোড়া। তাই নারে?
—হ্যাঁ আপু, ঠিক বলছ।
—রতইন্না তো বলদ। আমি হইলে তো বিয়াই করতাম না। দেখতেছস যে বউ চেঞ্জ, তারপরও তোর বিয়া করা লাগে! শালা বলদের ঘরে বলদ!
—আরে আপু, এতগুলো বরযাত্রী নিয়ে গেছে। এখন বউ ছাড়া কেমনে আসবে? ইজ্জতের একটা ব্যাপার আছে না!
—রাখ তোর ইজ্জত। ওর শ্বশুর বাড়ির লোকজন যে ছোট মেয়েরে দেখায় বড়ো মেয়ের বিয়ে দিল। এইখানে ইজ্জতের কী থাকল! ইজ্জত তো ত্যানা ত্যানা হইয়া গেল!
—ভেতরের কথা আমরা কয়েকজন ছাড়া আর কেউ তো জানে না।
—শোন লামিয়া, কানেরও দেয়াল আছে। সত্য গুইসাপ না যে গর্তে লুকায় থাকবে। সত্য বিমানের মতো। সে উড়ে উড়ে বেড়াবেই।
কথাটা শেষ করতে না করতেই, রাস্তার অন্ধকার থেকে কে যেন দৌড়ে এলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে মিসেস সামিহার গলায় ঝুলতে থাকা প্লাস সাইজের চেইনটা একটানে ছিনিয়ে নিয়ে ঠুস করে আবার পালিয়ে গেল।
মিসেস সামিহা সঙ্গে সঙ্গেই শুরু করে দিলেন কান্নাকাটি। সঙ্গে সব ইমোশনাল ডায়ালগ।
‘আল্লাহ রে আমার কপাল পুড়লো রে! ওগো বাসায় কী মা-বোন নাই? ওরা কেমনে পারল আমার মতো একটা নাজুক মেয়ের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলতে! কেমনে পারল ও আমার স্বর্ণের চেইনটা ছিনায় নিয়ে যাইতে! হায় আল্লাহ স্বর্ণের চেইনটা ছাড়া আমার কী হবে! আল্লাহ বিচার কইর ওগো, কঠিন বিচার!’ এভাবে মিসেস সামিহার টেপ রেকর্ডার লাগাতার বেজে যাচ্ছিল।
এর কয়েক মিনিটের ভেতরে, অন্ধকার থেকে সেই ছিনতাইকারীটা আবার বেরিয়ে এলো। মিসেস সামিহা তাকে দেখে ভয়ে চুপসে গেলেন। তার লাগাতার প্যাকপ্যাক মুহূর্তেই স্টপ। ছিনতাইকারী চেইনটা তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে, রিকশাওয়ালার গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিল।
—তোর লজ্জা করে না, এমন ডুপ্লিকেট মানুষজন রে রিকশায় তুলতে? আর এই আপা আপনার লজ্জা করে না সিটি গোল্ডরে স্বর্ণ বইলা চালাইতে! বেয়াদ্দপ মহিলা কোথাকার!
ছিনতাইকারী আবার রিকশাওয়ালার গালে ঠাস করে চড় বসিয়ে বলল, ‘আজকের মতো ছাইড়া দিলাম। তবে আর কোনোদিন যদি এমন ডুপ্লিকেট মাল রিকশায় উঠাস তাইলে কিন্তু ডিরেক্ট কিডনি খুইলা রাইখা দিমু। মনে থাকে যেন কথাডা!’ g
সরকারি তিতুমীর কলেজ
