সোমেশ্বরীর বালিয়াজুড়ীতে রাবার ড্যাম নির্মাণের দাবি
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা
ঝিনাইগাতী উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর বালিজুড়ীতে ৪৯ বছরেও নির্মিত হয়নি রাবার ড্যাম। এখানে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি কৃষকদের। রাবার ড্যাম না থাকায় প্রতি বছর বোরো মৌসুমে সেচসংকটে পড়তে হয় ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী দুই উপজেলার কৃষকদের।
সোমেশ্বরী নদীর উত্সস্থল ভারতে। নদীটি শ্রীবরদী উপজেলার খারামোড়া ও বালিজুড়ী হয়ে প্রবেশ করে। এ নদীর প্রবেশদ্বার শ্রীবরদীতে হলেও পুরো নদী বিস্তৃত ঝিনাইগাতী উপজেলায়।
রাণী শিমুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা ও কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল হকসহ কৃষকরা জানান, সোমেশ্বরী নদীর বালিজুড়ীতে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, ধানশাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামসহ কৃষকরা বলেন, তাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন বোরো আবাদ। কারণ, বর্ষা মৌসুমে এ নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল। ঢলের পানিতে ভাটি এলাকার শত শত একর আবাদি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে থাকে। ফলে কৃষকরা আমন আবাদ করতে পারে না। তাই তাদের একমাত্র ভরসা বোরো আবাদ। কিন্তু সোমেশ্বরী নদীর উজানে বালিজুড়ীতে স্থানীয় কৃষকরা প্রতি বছর নদীতে বাঁধ নির্মাণ করেন। এ পানিতে শ্রীবরদী উপজেলায় বোরো আবাদ করে থাকে। এতে সেচসংকটে পড়েন ঝিনাইগাতীর প্রায় ৫ হাজার কৃষক। ব্যাহত হয় বোরো আবাদ। শ্রীবরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, সোমেশ্বরী নদীর বালিজুড়ীতে যে বাঁধটি নির্মাণ করা হয় তার পানিতে প্রায় ২ হাজার কৃষক বোরো আবাদ করে থাকে। কারণ, বর্ষা মৌসুমে তাদের জমিগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় আমন আবাদ হয় না। আবার বোরো মৌসুমে পড়েন সেচসংকটে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, সোমেশ্বরী নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হলে কৃষকদের সেচসংকটের সমাধান হবে। কৃষকরা পাবেন স্বল্প মূল্যে রাবার ড্যামের পানি। এতে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরিধিও বাড়বে। কৃষিক্ষেত্রে ঘটবে বিপ্লব।
সংসদ সদস্য প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল হক বলেন, কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে সোমেশ্বরী নদীর বালিজুড়ীতে রাবার ড্যাম নির্মাণের প্রকল্প প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
