ইলিশের আমদানিতে সরগরম চাঁদপুর মত্স্য আড়ত

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৩৬

চাঁদপুর প্রতিনিধি

বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ইলিশের ভর মৌসুম হলেও অসময়ে ইলিশের আমদানি শুরু হয়েছে চাঁদপুরের প্রধান মত্স্য আড়ত বড়ো স্টেশন মাছঘাটে। প্রতিদিন আট থেকে ১০ মণ বড়ো সাইজের ইলিশ আমদানি হচ্ছে। এছাড়াও স্থানীয় পদ্ম-মেঘনা নদীতে জেলেদের আহরিত ছোটো সাইজের ইলিশ নিয়মিত ঘাটে বিক্রি হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে দক্ষিণাঞ্চলের বড়ো সাইজের ইলিশের আমদানি হওয়ার কারণে সরগরম হয়ে উঠেছে মাছঘাট।

শুক্রবার শহরের বড়ো স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে বড়ো দুটি ট্রলারে করে ভোলা, দৌলতখাঁ, চরফ্যাশন, শ্যামরাজ থেকে বড়ো সাইজের ইলিশ নিয়ে এসেছে ১০-১২ জন ব্যবসায়ী। এসব ইলিশ টুকরিতে করে আড়তে উঠাচ্ছে শ্রমিকরা। বিক্রির জন্য আড়তগুলোর সামনে বড়ো বড়ো স্তূপ করে সাজানো হয়েছে। বাছাই করা বড়ো-ছোটো ইলিশের স্তূপ আবার মুহূর্তেই হাকডাক দিয়ে দাম হাকিয়ে বিক্রি করেছে আড়তদাররা।

ঘাটের ভাই ভাই মত্স্য আড়তের ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ ব্যাপারী বলেন, গত দুই সপ্তাহে যেসব ইলিশ আমদানি হচ্ছে তার অধিকাংশ সাইজ ১ কেজি। আজকের বাজারে ১ কেজি ইলিশ প্রতি মণ ৩০-৩২ হাজার টাকা, ১ কেজি ৪০০ গ্রাম এবং দেড় কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ৩৬-৪০ হাজার টাকা, ৫০০-৬০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি মণ ২৪-২৫ হাজার টাকা, ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ১০-১২ হাজার টাকা। ছোটো সাইজের ইলিশগুলো বেশিরভাগ চাঁদপুরের স্থানীয় জেলেরা পদ্ম-মেঘনা নদী থেকে আহরণ করে।

মাছঘাটের শ্রমিক মো. আমিনুর শেখ বলেন, দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইলিশের ট্রলার রাত ১১টা থেকে সকাল পর্যন্ত আসতে থাকে। রাতে আসা ইলিশ আড়তে নামালেও বিক্রি শুরু হয় সকাল ১০-১১টার পরে। গত তিন মাস অবসর সময় কাটালেও এখন শ্রমিকরা মাছ উঠানো, পেকিং করা, বরফ দেওয়া এবং রপ্তানি করা গাড়িতে উঠানোর কাজে খুব ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

ভোলার চরফ্যাশন খাজুরগাইছ্যা এলাকার মাছ ব্যবসায়ী মো. আব্বাস বলেন, বিক্রির জন্য লঞ্চযোগে ১০ মণ ইলিশ নিয়ে এসেছেন। তার সঙ্গে এসেছেন আরো ১০-১২ জন ব্যবসায়ী। এই আড়তে বিক্রি করে আবার নিজ এলাকায় ফিরবেন।

চাঁদপুর জেলা মত্স্য বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক হাজী সবে বরাত বলেন, গত দুই সপ্তাহ দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশের আমদানি বেড়েছে। সাধারণত এই সময় বড়ো সাইজের ইলিশ দেখা যায় না। গত প্রায় ১০ বছর আগে একবার এই সময়ে ইলিশের আমদানি হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে বড়ো সাইজের ইলিশ এই সময়ে আমদানি হয় না। ধারণা করা হচ্ছে সাগরের মধ্যে অনেক সময় ভূকম্পন হয়। যে কারণে ইলিশ উজানের দিকে উঠে আসে।

তিনি আরো বলেন, চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর বড়ো সাইজের ইলিশের আমদানি কম। এই ঘাটের ছয়-সাত জন ব্যবসায়ী দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশ আমদানি করেন। এসব ইলিশ চাঁদপুরের স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়। এছাড়াও কুমিল্লা, ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, বগুড়া, দিনাজপুর, পাবনা, ময়মনসিংহ ও সিলেটে রপ্তানি করা হয়।