স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষকস্বল্পতার কারণে এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
জেলার ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ৬০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ৭০৮টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৪৯৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব স্কুলে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ২১১টি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ এবং পদোন্নতি দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকায় দিন দিন শূন্য পদ বাড়ছে। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ৮২টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এই শিক্ষকরা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় অন্য শিক্ষকদের ওপর চাপ বাড়ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১২টি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৬০৩। এর মধ্যে বগুড়া সদর উপজেলার ১২২টি বিদ্যালয়ের ২৯টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এ উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ছয়টি। শাজাহানপুর উপজেলায় ১২১টি বিদ্যালয়ের ৩২টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ছয়টি। সারিয়াকান্দিতে ১৬৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক নেই ৭৪টিতে। আর সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৫২টি। এখানে মামলাজনিত জটিলতায় প্রধান শিক্ষকের পদায়ন আটকে আছে ১১টি বিদ্যালয়ের। নন্দীগ্রামে ১০৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ছাড়া চলছে ২৭টি, সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ১৫টি। সোনাতলা উপজেলায় ১১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক নেই ৩৫টিতে, সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৪০টি। কাহালু উপজেলায় ১১৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক নেই ২৮টি বিদ্যালয়ে। সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ১১টি। গাবতলীতে ১৬৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৩টিতে প্রধান শিক্ষকের ও ১৩টিতে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। মামলাজনিত জটিলতায় পদায়ন আটকে আছে ছয়টি বিদ্যালয়ে। দুপচাঁচিয়ায় ৮৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে চারটি। আদমদীঘিতে ৯৮টি বিদ্যালয়ের ৩১টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের ১৭টি পদ শূন্য রয়েছে। শেরপুরে ১৩৬টি বিদ্যালয়ের ৫২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে একটি। মামলাজনিত জটিলতায় প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে রয়েছে ১৫টি বিদ্যালয়ে। শিবগঞ্জে ১৬২টি বিদ্যালয়ের ৫৯টিতে কোনো শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের ২৫টি পদ শূন্য রয়েছে। মামলাজনিত জটিলতায় পদায়ন আটকে রয়েছে ছয়টিতে। ধুনটে ১৯৪টি বিদ্যালয়ের ৫৭টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের ২১টি পদ খালি।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় স্কুলগুলোতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কাহালুর বাখরা সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের মোট পদ পাঁচটি। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাস থেকে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন আফরিন সুলতানা নামের একজন সহকারী শিক্ষক। আর প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে উচ্চতর প্রশিক্ষণে রয়েছেন আরিফুল ইসলাম নামের একজন সহকারী শিক্ষক। অবশিষ্ট দুই জন শিক্ষক হলেন মোসলেমউদ্দিন ও আমিনুল ইসলাম। পাঠদান করাতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরিন সুলতানা বলেন, তাকে নানা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের জন্য আলাদা কোনো ভাতাও প্রদান করা হয় না। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে সহকর্মীরা মানতেও চান না। কাহালুর ঢেকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযুগ ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা একজন শিক্ষক বলেন, নানা কাজে মাসে কমপক্ষে ১০ কর্মদিবস উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যেতে হয়। তখন দুই জন মাত্র শিক্ষক দিয়েই প্রাক্-প্রাথমিকসহ ছয়টি শ্রেণির ক্লাস চালাতে হয়।
কাহালু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, সে সবের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বগুড়া সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হেমায়েত আলী শাহ বলেন, বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৩৫ শতাংশ নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে পূরণ হয়ে থাকে। মামলা ও আইনগত জটিলতায় ২০১৮ সালের জুলাইয়ের পর থেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। আগামী জুলাই মাসে নিয়োগ ও পদায়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদের তালিকাও অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
