তামিম-মুমিনুলে উত্তরাঞ্চলের দিন

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৪১

চট্টগ্রামে এগিয়ে দক্ষিণাঞ্চল

 স্পোর্টস রিপোর্টার

ম্যাচের প্রথম দিনে আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল, রোদও কম ছিল। প্রথম দিন মিরপুরের উইকেটে সংগ্রাম করেছেন ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলের ব্যাটসম্যানরা। গতকাল রোদ্রজ্জ্বল পরিবেশে একই উইকেটে রান উত্সব করলেন ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের ব্যাটসম্যানরা। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম রাউন্ডে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন তামিম ইকবাল। মুমিনুলও সেঞ্চুরি পেয়েছেন।

প্রথম দিনের তুলনায় উইকেটের আচরণ বদল সম্পর্কে পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক মুমিনুল গতকাল দিন শেষে বলেছেন, ‘আগের দিন উইকেট কিছুটা স্লো ছিল। আজও স্লো ছিল। তবে ব্যাটিংয়ের জন্য একটু ভালো হতে পারে আজকে (গতকাল)। আমাদের দলে অনেক টেস্ট বোলার ছিল। আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করতে পেরেছি। ওদের দলে তেমন টেস্ট বোলার নাই।’

মিরপুরে গতকাল গোটা দিনে মধ্যাঞ্চলের বোলিংয়ে যার ছাপ স্পষ্ট ছিল। মুস্তাফিজুর রহমান, শহীদুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধরা টলাতে পারেননি তামিম-মুমিনুলদের। নির্বিষ বোলিং মাড়িয়ে বড়ো সংগ্রহের পথে হাঁটছে পূর্বাঞ্চল। গতকাল দ্বিতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে দলটির সংগ্রহ ২ উইকেটে ৩৯৫ রান। তামিম ২২২ ও ইয়াসির আলী রাব্বি ২২ রানে অপরাজিত আছেন। ১৮২ রানে এগিয়ে আছে পূর্বাঞ্চল।

চট্টগ্রামে উত্তরাঞ্চলের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ২০৭ রানে। প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে লিড পায় দক্ষিণাঞ্চল। শেষ বিকালে দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ৪০ রান তুলেছে দক্ষিণাঞ্চল। শাহরিয়ার নাফিস ১৯ ও শামসুর রহমান ১৬ রানে ব্যাট করছেন। গতকাল দ্বিতীয় দিন শেষে ৯৫ রানে এগিয়ে আছে দক্ষিণাঞ্চল।

মিরপুরে গতকাল দিনের শুরু থেকেই মধ্যাঞ্চলের বোলারদের আক্রমণ করেছেন পূর্বাঞ্চলের ব্যাটসম্যানরা। সারাদিনে ২টি উইকেট নিতে সমর্থ হয়েছে মধ্যাঞ্চল। তামিম-পিনাক ঘোষের ওপেনিং জুটি ভেঙেছেন শুভাগত হোম। পিনাক ২৬ রান করে এলবির ফাঁঁদে পড়েন। তারপর তামিম-মুমিনুলের ব্যাটে পিষ্ট হয়েছে মধ্যাঞ্চল। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেছেন তামিম। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার দ্বিতীয় ডাবল, ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম। রীতিমতো ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করেছেন তামিম। লাঞ্চের পরপরই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৬তম সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। চা বিরতির পর ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। দ্বিতীয় উইকেটে তামিম-মুমিনুল গড়েছেন ২৯৬ রানের জুটি।

মুমিনুল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২১তম সেঞ্চুরি করেন। তামিমের তুলনায় কিছুটা ধীরলয়ে খেলেছেন পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক। ১৯৪ বলে ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১১১ রান তুলে মুকিদুলের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুমিনুল। তামিম ইনিংসটা বড়ো করেছেন। ২৮১ বল খেলেছেন। অপরাজিত ২২২ রানের ইনিংসে চার মেরেছেন ৩০টি।

চট্টগ্রামে গতকাল শেষ ৫ উইকেটে ১৬১ রান যোগ করেছে উত্তরাঞ্চল। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন রনি তালুকদার ও আরিফুল হক। রনি ৫৫, আরিফুল অপরাজিত ৫৮, তানবির হায়দার ৩৪, সুমন খান ২৭ রান করেন। আগের দিন ৫ উইকেট নেওয়া শফিউল গতকাল এবাদত হোসেনকেও বোল্ড করেছেন। ৪০ রানে ৬ উইকেট নেন তিনি। যার মধ্যে পাঁচটিই বোল্ড। অধিনায়ক রাজ্জাক ৭২ রানে ৪ উইকেট পান।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ষষ্ঠ ওভারেই ফজলে রাব্বির (২) উইকেট হারায় দক্ষিণাঞ্চল। তাসকিনের বলে ক্যাচ দেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান। এর আগে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই ব্যথা পেয়ে অবসরে যান বিজয়। পরের সময়টুকু কাটিয়ে দিয়েছেন শাহরিয়ার নাফিস ও শামসুর।