ভারতে সংশোধনী নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ চলছে। দুই দিন আগে জামিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা ঘটে। এর দু্ই দিনের মাথায় গতকাল দিল্লির শাহিনবাগে গুলি চালিয়েছে এক ব্যক্তি। তবে এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। —খবর এনডিটিভির
জানা গেছে, শাহিনবাগে গুলি চালানোয় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, এক ব্যক্তি ‘জয় শ্রীরাম’ বলে স্লোগান দেয় এবং যেখানে বিক্ষোভকারীরা জমায়েত করেছেন গত এক মাস ধরে, সেখানে রাখা পুলিশ ব্যারিকেডের দিকে গুলি চালায়। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের দেশে কেবল হিন্দুরাই সুবিধা পাবে।’ এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পুলিশের পরেই ডান দিকে দাঁড়িয়ে দু-তিনবার গুলি চালায় ঐ ব্যক্তি। তিনি জানান, ‘আমরা হঠাত্ই গুলির শব্দ শুনি। ঐ ব্যক্তি ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিচ্ছিল। তার কাছে একটি সেমি-অটোমেটিক পিস্তল ছিল এবং দুই রাউন্ড গুলি চালায়। ঠিক তার পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশ। তিনি আরো বলেন, বন্দুক আটকে গেলে সে পালিয়ে যায়। আবারো গুলি চালানোর চেষ্টা করে, তারপর বাসে বন্দুকটি ছুড়ে দেয় এবং পালাতে চেষ্টা করে। আমাদের কয়েক জন এবং পুলিশ তাকে ধরে ফেলে।’
পুলিশ কর্মকর্তা চিন্ময় বিশাল বলেন, শূন্যে গুলি চালায় ঐ ব্যক্তি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধরে ফেলে পুলিশ। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার গুলি চলল নাগরিকত্ব আইনের বিরোধী সভায়। এর আগে বৃহস্পতিবার জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলি চলে। শাহিনবাগ থেকে দুই কিলোমিটার দূরে জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্র গুলি চালায়, তার ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশ।
নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে শাহিনবাগের আন্দোলন দেশ জুড়ে শিরোনামে উঠে এসেছে। নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এই আইনে ধর্মকে রাখা হয়েছে বলে বিক্ষোভকারীরা বলছেন। সমালোচকদের দাবি, ২০১৫-এর আগে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের অমুসলিম নাগরিকরা ভারতে এলে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে সেটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক। এদিকে নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে আন্দোলনকারীরা দিল্লি ও নয়ডার সংযোগকারী রাস্তায় শাহিনবাগে অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব রয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই অবস্থানে যাত্রীদের ট্রাফিক সমস্যা ভোগ করতে হচ্ছে।
