ভারতের নতুন অর্থবছরের (২০২০-২১) পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামান। এপ্রিলে শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরের বাজেট (এপ্রিল-মার্চ) গতকাল পহেলা ফেব্রুয়ারি পেশ করেন তিনি। এবারের বাজেটে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। বেতনভুক্তদের জন্য স্বস্তির খবর দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ১৫ লাখ রুপি পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে কর কাঠামোয় রদবদল করা হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, কর নিয়ে কোনোরকম হেনস্থা বরদাশত করা হবে না। হেনস্থা ঠেকাতে আইন করা হবে।
তিনি বলেন, বাজেটের তিনটি মূল বিষয় হলো : উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারত, যত্নবান সমাজ এবং সবার জন্য আর্থিক উন্নয়ন। নতুন কর ব্যবস্থায় বছরে আড়াই লাখ রুপি থেকে ৫ লাখ রুপি পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ আয়কর দিতে হবে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী বাজেটে ৫ লাখ থেকে সাড়ে ৭ লাখ রুপি পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে আয়করের হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশের ঘোষণা করা হয়েছে। বার্ষিক সাড়ে ৭ লাখ থেকে ১০ লাখ রুপি পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ, ১০ লাখ রুপি থেকে সাড়ে ১২ লাখ রুপি আয়ের ক্ষেত্রে আয়কর ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ, সাড়ে ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখ রুপি পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে আয়করের হার ২৫ শতাংশ ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে। ১৫ লাখের ওপর আয়ের ক্ষেত্রে আয়করের হার ৩০ শতাংশই রাখা হয়েছে। এবারের বাজেটে আমানতকারীদের বিমা ১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ রুপি করা হয়েছে। তবে নতুন আয়কর কাঠামোয় ৭০টি ছাড় তুলে দেওয়া হয়েছে। পুরোনো হারে আয়করে ছাড়ের সুবিধা আগের মতোই থাকছে। নতুন হারে কর দিলে মিলবে না আয়করে ছাড়ের সুবিধা। করদাতা বেছে নিতে পারবেন তিনি নতুন হারে আয়কর দেবেন না পুরোনো হারেই কর দেবেন।
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশ। মূল্যস্ফীতি ঠিকভাবে ধরে রাখা গেছে। ২০১৪ সালে মার্চে কেন্দ্রের ঋণ ছিল জিডিপির ৫২ দশমিক ২ শতাংশ, তা কমে এখন হয়েছে ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ। রাজস্ব ঘাটতি ধরা হয়েছে জিডিপির ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এবারের বাজেটে নতুন বিভিন্ন ঘোষণার বিষয়ে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় বিমা সংস্থা এলআইসির অংশীদারিত্ব বিক্রি করা হবে। সেই সঙ্গে আইডিবিআই ব্যাংকেরও শেয়ার বিক্রি করবে সরকার। পেনশনের জন্য নতুন ট্রাস্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটিতে আরো সংস্কার আনা হবে। এবারের বাজেটে ব্যাংকগুলোকে চাঙ্গা করতে ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি রুপি বরাদ্দ রয়েছে। লাদাখে উন্নয়নে ব্যয় করা হবে ৫ হাজার ৯০০ কোটি রুপি। কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে ২ দশমিক ৮৩ লাখ কোটি রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৩ দশমিক ৬ লাখ কোটি রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে বাড়ি বাড়ি পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি পৌঁছে দিতে। ৯৯ হাজার ৩০০ কোটি রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে শিক্ষাখাতে। ২৮ হাজার ৬০০ রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে নারীদের উন্নয়নে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে। স্বাস্থ্যখাতে ৬৯ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষিত স্বচ্ছভারত প্রকল্পে খরচ করা হবে ১২ হাজার ৩০০ কোটি রুপি। নতুন করে ২ হাজার কিলোমিটার জাতীয় সড়ক, ১০০টি অতিরিক্ত বিমানবন্দরের উন্নয়নসহ পর্যটনের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ভারতের জাতীয় বাজেটে।
