চার দেয়ালের ভেতরে শিক্ষা, ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা বা ছাদে বসে আকাশ দেখার আনন্দ। এখনকার সময়ে শিশুদের বেড়ে ওঠার খোরাক যেন এমনই। প্রযুক্তির জ্ঞানের দিক থেকে শিশুরা এগিয়ে গেলেও প্রযুক্তির বাইরে সমাজে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রামের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের প্রায় বেশিরভাগ শিশু। প্রকৃতির মধ্যে থেকে মেধা বিকাশের সুযোগটা তাই কমছে দিনদিন। এর মাঝেও শিশুদের নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ স্কাউট।
মোস্তাফিজ মিঠু
সম্প্রতি তাদের উদ্যোগে গাজীপুরের মৌচাকে আয়োজিত হয়ে গেল নবম জাতীয় কাব ক্যাম্পুরি ক্যাম্প। ‘পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা নিয়ে বদলে যাবে দেশ’ প্রত্যয় নিয়ে ১৯ জানুয়ারি শুরু হয় এই ক্যাম্প। ২৪ জানুযারি মহাজলসার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের আয়োজন। গত বছর থেকে এই আয়োজনের সঙ্গে পার্টনার হিসেবে রয়েছে ‘ডেটল-হারপিক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’।
৬ থেকে ১০ বছরের ওপর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। সারাদেশের বিভিন্ন স্কুল থেকে এই আয়োজনে অংশ নেয়। মোট ৫ দিনে ১২টি কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রতিভা মেলে ধরার সুযোগ পায়। তার মধ্যে একটি স্বপ্ন ছিল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ভিলেজ পরিদর্শন। ৫০টি স্টল দিয়ে তৈরি এই ভিলেজে এসে কাব স্কাউটরা দেশের ঐতিহ্য, কৃষ্টি, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, পরিবেশ সম্পর্কে ভবিষ্যতে করণীয় সম্যক ধারণা পায়।
এবারের কাব ক্যাম্পুরিতে ছিল ৪টি ভিলেজ। প্রতিটি ভিলেজে ছিল সাব-ক্যাম্প। সব মিলিয়ে ৮টি ক্যাম্পে সারাদেশ থেকে আসা ৮৮৮টি প্রতিষ্ঠানের ৫ হাজার ৩২৮ জন কাব স্কাউট, ৮৮৮ জন কাব স্কাউট লিডার, ৫৪৩ জন কর্মকর্তা, ৫১৯ জন স্বেচ্ছাসেবক রোভার স্কাউট, ৭৯ জন সাপোর্ট স্টাফ, ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, আনসার, বাবুর্চিসহ প্রায় ৯ হাজার অংশগ্রহণকারী ক্যাম্পুরিতে যোগ দেন। এছাড়াও ক্যাম্পুরিতে অভিভাবক দিবস, টপ অ্যাচিভার্স ও উডব্যাজ রি-ইউনিয়নে স্কাউটার, রোভার স্কাউট, স্কাউট, কাব স্কাউট ও স্কাউট শুভানুধ্যায়ী অংশ নেন।
পরিচ্ছন্নতার মনিটরিং টিমকে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি ও প্রধান পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘এবারের কাব ক্যাম্পুরি বিগত কাব ক্যাম্পুরি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এবারের কাব ক্যাম্পুরিকে বলা হচ্ছে, পরিচ্ছন্নতার কাব ক্যাম্পুরি। প্রথমবারের মতো এবারের কাব ক্যাম্পুরিতে পলিথিনের ব্যবহার সম্পূণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
কাব স্কাউটরা তাদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতনতাসহ বিভিন্ন অজানা বিষয়ে হাতে-কলমে জ্ঞান লাভ করছে। তারা পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার এবং সঠিক পদ্ধতিতে হাত ধোয়ার বিষয়টি নিয়মিত চর্চা করছেন। নতুন প্রজন্মের মাঝে পরিচ্ছন্নতার সচেতনতার বার্তা ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগুচ্ছে এই আয়োজন। ক্যাম্পুরি এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিদিন তিনবার করে স্কাউটসের পরিচ্ছন্নতার মনিটরিং টিম কাজ করছে।’ ডেটল হারপিক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন দূত চিত্রনায়ক রিয়াজ বলেন, ‘একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ উপহার দিতে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। এ জন্য আমাদের অঙ্গীকার করতে হবে আমরা যেন যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলি। এজন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ডেটল হারপিক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে দেশব্যাপী কাজ করছে।’
