স্পোর্টস ডেস্ক
দিন দশেক আগে ফিফা লিজেন্ড হিসেবে বাংলাদেশে এসেছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি গোলরক্ষক হুলিও সিজার। ঢাকায় একদিন কাটিয়ে ফুটবলের যে জনপ্রিয়তা দেখে গেছেন তাতে মুগ্ধতার রেশ এখনো কাটছে না তার। সফর শেষে সমপ্রতি ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এমনটাই জানালেন সাবেক ব্রাজিলীয় গোলরক্ষক।
বাংলাদেশে এসে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল দেখা ও বাফুফে কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ ছাড়াও দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গেও আলাপ করেছিলেন সিজার। তবে এর বাইরে যেটুকু সময় বাংলাদেশের ফুটবলে নজর দিতে পেরেছেন তাতেই দেশে ফুটবল-উন্মাদনার ব্যাপারে আন্দাজ পেয়ে গেছেন তিনি। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে সিজার বলেন, ‘সেখানকার মানুষ ফুটবলের ব্যাপারে কী উত্সাহী! ব্যাপারটা চোখে পড়ার মতো।’
সিজার জানান, দূর পরবাসেও ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থনে বিভক্তি কিছুটা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে সাবেক ইন্টার মিলান গোলরক্ষকের মনে, ‘ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থন নিয়ে বিভক্তিটাও উল্লেখযোগ্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ঢাকায় খুব বেশি সময় কাটাতে পারিনি কিন্তু শহরটার তীব্রতা এখনো অনুভব করতে পারি। শহরটার ট্রাফিক ব্যবস্থাও একটা ছাপ ফেলেছে। সফরটা সুন্দর ছিল।’ বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় খেলোয়াড়দের শারীরিক শক্তি বাড়ানোর পথও বাতলে দিয়েছিলেন সিজার। কী ছিল সে উপায়? ফিফা কিংবদন্তির ভাষ্য : ‘জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের গড়পড়তা শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্যে মানবসম্পদে আরো বেশি বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছিলাম আমি। আরো স্পষ্ট করে বললে, আমি পরামর্শ দিয়েছিলাম যোগ্যতাসম্পন্ন কোচ আর পেশাদার স্টাফদের রাখার যারা দৈনিক ভিত্তিতে আরো ভালোভাবে খেলোয়াড়দের অনুশীলন করাবে।’
নারী ফুটবলে শেষ ক’বছর ধরেই বাংলাদেশের উন্নতির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। তার পাশাপাশি উঠতি নারী খেলোয়াড়দের মধ্যেও ফুটবল উন্মাদনা স্বস্তির হাসি ফুটিয়েছে সাবেক ব্রাজিলীয় গোলরক্ষকের ঠোঁটে, ‘সেখানকার ফুটবলের শক্তি আর কীভাবে সেটা সেখানকার বাচ্চাদের ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতে উদ্বুদ্ধ করে সেটা দেখা অসাধারণ এক ব্যাপার ছিল। সেখানে অনেক মেয়ে ফুটবলের প্রতি বেশ নিবেদিত, নারী ফুটবলের জন্যে এই মুহূর্তে যেটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।’
বাংলাদেশে এসে ফুটবলের উন্নতির মন্ত্র যেমন বাফুফেকে, খেলোয়াড়দের দিয়েছেন সিজার ; সফর থেকে নিয়ে গেছেন কিছু শিক্ষাও। তিনি বলেন, ‘শুধু বাচ্চাদের কাছ থেকেই নয়, পুরো বাংলাদেশই আমাকে দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা থাকলেও হাসতে শিখিয়েছে। সেখানে থাকার সময় অনেক হাসি দেখেছি আমি।’
