বায়ুদূষণ রোধে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে কঠোর হোন :হাইকোর্ট

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:০৮

পাঁচ ম্যাজিস্ট্রেট পদায়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

পরিবেশ অধিদপ্তরে এক মাসে পাঁচ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদায়ন করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পরিবেশ রক্ষায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। এদিকে আদালতে দাখিলকৃত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানে ছয়টি টায়ার পোড়ানো ও তিনটি ব্যাটারি রিসাইক্লিনিং কারখানা বন্ধ করা হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে ২৫৬টি ইটভাটা বন্ধ ও ৭ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া বায়ুদূষণ বন্ধে ব্যক্তিগত গাড়ি কমানো ও হাইব্রিড গাড়ি আমদানির সুপারিশ করা হয়েছে। বায়ুদূষণপ্রবণ এলাকায় স্থায়ীভাবে পানি ছিটানো এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে সুপারিশ করা হয়েছে।

ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা আদালতে জানাতে হাইকোর্টে হাজির হয়েছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম রফিক আহাম্মদ। তিনি আদালতকে বলেন, আমাদের জনবলের অভাব রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরে আট জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকার কথা। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট আছে তিন জন। ঢাকায় দুজন, চট্টগ্রামে একজন। এছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য সময়মত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পাওয়া যায় না। ফলে এক ধরনের সমন্বয়হীনতা রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট পদায়ন চেয়ে চিঠি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আদালত বলেন, অবৈধ ইটভাটাগুলো কীভাবে এতদিন চলছিল? এক ধরনের দুর্নীতির কারণে অবৈধ ইটভাটাগুলো চলে আসছিল। আমাদের আদেশ দিতে হয়েছে ঐ অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করতে। ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে আপনারা আরো কঠোর হন।

এ সময় রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে আমাতুল করীম এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার শুনানি করেন। মনজিল মোরসেদ বলেন, আগামী ১০ মার্চ বায়ুদূষণ রোধে নীতিমালা প্রণয়নসহ কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেসব বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

পরে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ কে এম রফিক আহাম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, বায়ুদূষণ রোধ একটি সমন্বিত কাজ। আদালত আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, পরিবেশ অধিদপ্তরের এটা মূল দায়িত্ব। কিন্তু সবার সহযোগিতা লাগবে, পরিবেশ অধিদপ্তর একা পারবে না। আদালতও এ কথাটি বলেছেন। তিনি বলেন, বায়ুদূষণের ব্যাপারে ২০১২ সালের যে গবেষণা রয়েছে সেখানে ইটভাটাকেই সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয়েছে। এখন যানবাহনও একটা কারণ। গত সপ্তাহে আমরা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে একটি বৈঠক করেছিলাম, সেখানে যানবাহনকেও দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া আরেকটি নতুন কারণও উঠে এসেছে। আবহাওয়াগত বিষয়ও আছে কিছু। শুষ্ক মৌসুমে এয়ার স্ট্যাগনেশনও এক ধরনের এয়ার ট্রাপ তৈরি হয়। তার সঙ্গে সঙ্গে দূষণগুলো যুক্ত হয়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয় না, বৃষ্টি ছাড়া। তিনি বলেন, যানবাহনে আরেকটা নতুন জিনিস দেখবেন যে, রাইড শেয়ারিং হয়। এক সময় প্রাইভেটকার কাজ না থাকলে বসে থাকত। এখন তা থাকে না। তারা কিন্তু এখন উবার, পাঠাওয়ের মতো সার্ভিস দিয়ে থাকে। এই কারণে যানবাহন থেকে দূষণের হার কিন্তু অনেক বেড়েছে।