হাসপাতালে নেওয়া চীনফেরত আট জনের দেহে করোনা ভাইরাস মেলেনি

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৪৪

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে চীনের উহান থেকে ফেরা ৩১২ জনের মধ্যে যে আট জনকে জ্বরের কারণে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, পরীক্ষানিরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি। আজ সোমবার হাসপাতাল থেকে তাদেরকে হজ ক্যাম্পে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। এদিকে, এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক আক্রান্তের মধ্য দিয়ে চীনে নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩৮০ জনে। আরো ৪৫ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চীনে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৪ জনে। করোনো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনের বাইরে ফিলিপাইনসে প্রথম কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ৪৪ বছর বয়সি ঐ চীনা নাগরিক হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ?এসেছিলেন, যেখানে প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়েছিল। ফিলিপাইনসে পৌঁছানোর আগেই        তিনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও গণপরিবহন বন্ধ করেও করোনা ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার ঠেকানো যাচ্ছে না। গত শনিবার একদিনেই নতুন করে ২ হাজার ৫৯০ জনের শরীরে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। শনিবার যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের সবাই এবং যাদের মধ্যে নতুন করে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তাদের অধিকাংশই হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা। উহান শহরের একটি সি ফুড মার্কেট থেকেই গত বছরের শেষে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাস ঠেকাতে উহানসহ বেশ কয়েকটি শহর কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে চীন। গণপরিবহন বন্ধ রাখায় ৬ কোটি মানুষের চলাচল হয়ে পড়েছে সীমিত। বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের চীন থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। জারি করছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। এয়ারলাইনসগুলো চীনের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট কমিয়ে দিচ্ছে বা বন্ধ করে দিচ্ছে। শঙ্কিত কয়েকটি দেশ তাদের সীমান্তেও চীনাদের জন্য কড়াকড়ি আরোপ করেছে। সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া সাম্প্রতিক সময়ে চীন ভ্রমণ করা বিদেশিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। রাশিয়াও চীনাদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। হুবেইতে থাকা রুশ নাগরিকদের সোম ও মঙ্গলবার সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স ও টিএএসএস। হুবেই থেকে সরিয়ে নেওয়া জার্মানির শতাধিক নাগরিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা শনিবার ফ্রাঙ্কফুর্টে পৌঁছেছেন। ২৫০ জনের মতো ইন্দোনেশীয় নাগরিককেও হুবেই থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়ছে চীন, তাতে বড়ো ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি।

চীনের বাইরে আক্রান্তদের অধিকাংশই সম্প্রতি হুবেই ভ্রমণ করেছেন অথবা সেখান থেকে ফিরেছিলেন। কয়েকটি দেশে তাদের মাধ্যমে এ ভাইরাস অন্যদের মধ্যে ছড়িয়েছে, যারা কখনো চীনে যাননি।

উহান-ফেরত অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে রাখা হবে

গত শনিবার দুপুরে উহান থেকে যারা দেশে ফিরেছেন, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাদের বাসে নিয়ে যাওয়া হয় আশকোনো হজ ক্যাম্পে। সেখানে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে তাদের। এদের মধ্যে আট জনকে জ্বরের কারণে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, তাদের সবার অবস্থা ‘স্থিতিশীল’ বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, তাদের সবার তাপমাত্রা এখন ঠিক আছে। অবস্থা স্টেবল। তাদের পরীক্ষানিরীক্ষায় নেগেটিভ ধরা পড়েছে। বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে শনিবার ঐ ৩১২ জনকে উহান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তারপর বিমানবন্দরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরীক্ষা করে জ্বর পাওয়া সাত জনকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে এবং একজন নার্সকে সিএমএইচে পাঠানো হয়। ঐ নার্স অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তার স্বামী ও সন্তানকেও তার সঙ্গে সিএমএইচে থাকতে দেওয়া হয়। অন্তঃসত্ত্বা নার্সকে হাসপাতালে আরো কয়েক দিন রাখা হবে।

৩৬৯১ জনের স্কিনিং :চীন থেকে ফেরা যাত্রীদের হেলথ স্কিনিং হচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। গতকাল রবিবার পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৬৯১ জনের স্কিনিং হয়েছে। গতকাল এসেছেন ২৭৮ জন। তাদের কারো শরীরে জ্বর বা অন্য কোনো উপসর্গ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিত্সক ডা. জেবিন।