বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে শুরু হলো জাতীয় কবিতা উত্সব

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:৪৯

আর কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ। আর এই শ্রেষ্ঠ বাঙালিকে স্মরণ করে শুরু হয়েছে জাতীয় কবিতা উত্সব। ‘মুজিব আমার স্বাধীনতার অমর কাব্যের কবি’ প্রতিপাদ্যে গতকাল রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সংলগ্ন হাকিম চত্বরে শুরু হয়েছে এই কবিতা উত্সব। দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এ উত্সবের আজ শেষ দিন।

গতকাল উত্সবের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য র্যালি। এসময় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, শিল্পী কামরুল হাসানের সমাধি এবং কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও উত্সব পতাকা উত্তোলন করেন কবিরা। শুরুতে দেশের সাম্প্রতিক সময়ে নিহতদের জন্য শোক প্রস্তাব ও এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এসময় মূলমঞ্চে শিল্পীরা গেয়ে ওঠেন একুশের গান ও উত্সব সংগীত। এ বছর উত্সবের জন্য ‘মুজিব আমার স্বপ্নসাহস মুজিব জাতির পিতা’ গানটি লিখেছেন কবি মুহাম্মদ সামাদ, সুর করেছেন ফকির আলমগীর। দীর্ঘদিন ধরে এ উত্সবের সংগীত পরিচালনার জন্য সংবর্ধনা জানানো হয় গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীরকে।

উত্সবের উদ্বোধন করেন কবি মহাদেব সাহা। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি উত্সবস্থলে উপস্থিত না থাকায় তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আবৃত্তিশিল্পী এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। লিখিত উদ্বোধনী বক্তব্যে কবি মহাদেব সাহা বলেন, ৩৩ বছর আগে ইতিহাসের এক ভয়ংকর দুঃসময়ে স্বৈরাচারী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এদেশের মূলধারার কবিরা যে অনন্য ও অসাধারণ সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন, কালের ধারায় তা আজ এক মহাইতিহাসে পরিণত হয়েছে। কবিতা পরিষদের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, বাঙালির প্রথম অস্ত্র ভাষা, যা তার মায়ের মুখ থেকে শেখা। দ্বিতীয় অস্ত্র সদাচার এবং তৃতীয় অস্ত্র সংঘবদ্ধতা, যা তার পরিবার বা সমাজ তাকে শিখিয়েছে। এ সমন্বিত অস্ত্রটি বাঙালি প্রয়োগ করেছে তার সত্যস্বরে উচ্চারিত প্রতিটি মুক্তশব্দ তথা কবিতা দিয়ে।

কবিতা উত্সবের আহ্বায়ক কবি শিহাব সরকার বলেন, কবিদের চিরায়ত ধর্ম অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শুভ ও মঙ্গল আবাহনে পূর্ণাঙ্গভাবে দীক্ষিত হয়ে গেছে কবিতা উত্সব। সভাপতির বক্তব্যে কবিতা পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ সামাদ বলেন, পৃথিবীর সব কবির কর্তব্য মানুষের জন্য অনিন্দ্য সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন রচনা করা।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কবি আমিনুর রহমান সুলতান, আনিসুল হক, কাজী রোজী, দিলারা হাফিজ, রবীন্দ্র গোপ, নিপু শাহাদাত, পিয়াস মজিদ, ফকির আলমগীর প্রমুখ। এবারের উত্সবে সুইডেন, উজবেকিস্তান, ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ১০০-এর বেশি কবিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সুইডেন থেকে আসেন কবি বেঙ্ত সোদারহল। গিটারসদৃশ চার তারের সুরযন্ত্র ইউকেলেলে বাজিয়ে তিনি গেয়ে শোনালেন নিজের কবিতা। পরে মঞ্চে আসেন নেপালের কবি তুলাসি দিওয়াসা। ইংরেজিতে তার পাঠের নেপথ্যে আবহসংগীত বাজতে থাকে পিয়ানোতে।

সারা দিন কবিতা পাঠ: গতকাল দিনব্যাপী উত্সবমঞ্চে কবিতা পাঠের আয়োজন ছিল। বিদেশি কবিরা ছাড়াও পাঠ ও আবৃত্তি করেন আসাদুজ্জামান নূর, নূহ-উল-আলম লেনিন, রুবী রহমান, আনোয়ারা সৈয়দ হক, দিলারা হাফিজ প্রমুখ।

আজ সেমিনার, আবৃত্তি ও পুরস্কার: আজ সোমবার বেলা ১১টা থেকে ‘কবিতায় বঙ্গবন্ধু’, সাড়ে ১২টায় ‘শৃঙ্খল মুক্তির জন্য কবিতা’ বিষয়ের ওপর সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর থেকে কবিতা পাঠ। বিকাল সাড়ে ৫টায় দেওয়া হবে কবিতা পরিষদ সম্মাননা ও পুরস্কার।