‘নির্বাচন ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট রাজনীতিবিদদেরই সৃষ্টি। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ রাজনীতিবিদদেরই তৈরি করতে হবে। নির্বাচনের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যার ওপর মানুষ আস্থা রাখতে পারে। গতকাল শনিবার রাজধানীর পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সিজিএস-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক নুরুল কবির। প্রধান অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, যেনতেন নির্বাচন সংকট আরও গভীর করবে। সরকার নৈতিকতার চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। এখন মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে— ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন কি না। বাস্তবতায় দেখা দিয়েছে এখন একপেশে মাঠ। বিরোধী দল অনুপস্থিত। ভোটাররা কেন্দ্রে নির্ভয়ে যেতে পারবে কিনা তা গণমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশে শত শত কাগজ বের হচ্ছে। মিডিয়ার কর্মীদের প্রশিক্ষণ কম। কোনো কিছুর পটভূমি বুঝতে তাদের প্রশিক্ষণ দরকার।
মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতায় যে সংকট তৈরি হয়েছে তার জন্য কাকে দায়ী করবেন। সরকারকে দায়ী করার আগে নিজেদের আত্মসমালোচনার দরকার আছে।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, মিডিয়া এককভাবে দায়িত্ব পালন করে না, অন্যরা যদি সঠিক দায়িত্ব পালন না করে তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক সালেহ আহমেদ বলেন, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে, ভোট দিতে পারব কিনা। প্রথম আলো পত্রিকার কনসালটেন্ট আয়শা কবির প্রশ্ন করে বলেন, আসলে কি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে?
নুরুল কবির বলেন, নির্বাচন হবে কিনা— এখনও সংশয় আছে। মিডিয়ার যে আচরণ, বেশির ভাগই জনগণের স্বার্থের বাইরে গিয়ে দলের হয়ে কাজ করছে। জনগণের দু’দলের বিভাজনের মতো মিডিয়াতেও বিভাজন প্রকট। আশা করি এটা একদিন পরিবর্তন হবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা-জানিপপ-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, দৈনিক দিনকাল-এর সম্পাদক ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী, ভারতীয় সাংবাদিক চন্দন নন্দী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুু, সিজিএস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।
