আজ পাকিস্তান যাচ্ছে দল
স্পোর্টস রিপোর্টার
পাকিস্তান গিয়ে আবারও গৃহবন্দি হয়ে থাকতে হবে দলকে।
খেলার ঠিক আগে আগে পৌঁছানো, উইকেট চেনার সুযোগ নেই, অনুশীলন ম্যাচ নেই। রাসেল ডমিঙ্গো পরিষ্কার বললেন, এটা টেস্ট খেলার আদর্শ পরিস্থিতি নয়। তার পরও খেলতে হবে। আর এই খেলতে হবে বলেই খেলোয়াড়দের কাছে ধারাবাহিকতা চাচ্ছেন কোচ। তিনিও চান একাদশ ও স্কোয়াড নির্বাচনে ধারাবাহিক থাকতে।
এই ধারাবাহিক ধাকবেন বলেই মোহাম্মদ মিঠুনকে দলে নিয়েছেন বলে বলছিলেন। মিঠুনের ফর্ম নিয়ে কোচ বলছিলেন, ‘মিঠুন খারাপ ফর্মে, তা বলা চলে না। এখন সে ৬০ রানে (মধ্যাঞ্চলের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৩ করেছেন) ব্যাট করছে। পাকিস্তানে একটা টি-টোয়েন্টি খেলেছে। আমার মতে, বিপিএলও তার ভালো ছিল। সে খারাপ ফর্মে তা বলব না।’
মিঠুনকে আরো সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন কোচ। কেন মনে করেন, সেটার কারণও ব্যাখ্যা করে বললেন তিনি। বলছিলেন, ‘ভারতে কঠিন কন্ডিশনে আমাদের টেস্ট দলে খেলেছে মিঠুন। এক-দুই টেস্ট পরই কাউকে বাদ দেওয়া কঠিন। আমি সবসময় বলি যে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক হতে হবে। কারো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাকে কয়েক টেস্ট খেলতে দিতে হবে। এই সফরে অনেকে আছে যারা ভারতের বিপক্ষে দলে ছিল। আমরা তাদের খেলায় উন্নতি করার সুযোগ দিচ্ছি।’
ভারত সফর থেকে ডমিঙ্গো বলে আসছেন, সংস্করণ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন দল গঠন করবেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ জানালেন, চলছে এর প্রস্তুতির কাজ, ‘আগেও বলেছি যে কেউ কেউ সব সংস্করণে থাকবে না। যখন আপনার হাতে অনেক সুযোগ থাকবে না, তখন সব সংস্করণে কয়েক জন যেন খেলতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্দিষ্ট কিছু পজিশনে সব সংস্করণে কিছু খেলোয়াড়কে খেলানোর চেষ্টা করতে হবে।’
এই সফরে টেস্টেও পাশে পাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজের সাবেক সহকর্মী ওটিস গিবসনকে। গিবসন ও ডমিঙ্গো দুজনেরই দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা আছে। ডমিঙ্গো বলছিলেন, তিনি কেবল বোলিং কোচ হিসেবে গিবসনকে চান না। তার কোচ হিসেবে অভিজ্ঞতার সবটুকুই কাজে লাগাতে চান তিনি, ‘গিবসনকে আমি অনেক দিন ধরেই চিনি। তিনি অভিজ্ঞ একজন কোচ। তাকে কেবল বোলিং কোচ হিসেবেই ব্যবহার করব না। অন্য ব্যাপারগুলোতেও তাকে সম্পৃক্ত করব। আমাকে ১০ জন বোলারের নাম দিয়েছেন যাদের তিনি মনে করছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার মতো। ওদের খেলাতে আগামী কয়েক মাসে আমাদের কিছু ম্যাচ প্রয়োজন হবে।’
সবমিলিয়ে পাকিস্তান সফরের আগে নিজের দল নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট কোচ। বলছিলেন, যাদের পাওয়া যাচ্ছে, তার মধ্য থেকে এটা সেরা দল। বিশেষ করে সবাই ফর্মে আছে বলে সন্তুষ্ট তিনি, ‘কোনো সন্দেহ নেই, নেটে অনুশীলনের চেয়ে ম্যাচে রান করা বেশি অর্থবহ। যারা রান পেয়েছে তারা আত্মবিশ্বাস পাবে। তামিমের ট্রিপল সেঞ্চুরি একটি অসাধারণ প্রয়াস ছিল। খুব বেশি হয় না, তাই এটা খুব দামি। মুমিনুল, রিয়াদ সেঞ্চুরি করেছে। মিঠুন ফিফটি পেয়েছে। ছেলেরা পাঁচ উইকেট পেয়েছে। ওরা দেখিয়েছে ওরা কেন টেস্ট দলে আছে। টেস্ট খেলোয়াড়দের ঘরোয়া ক্রিকেটে বড়ো কিছু করা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ।’
