দ্বৈরথের শেষ হাসি মরিনহোর হতাশায় পুড়ছেন গার্দিওলা

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:২৫

স্পোর্টস ডেস্ক

টটেনহ্যামের কোচ হয়ে আসার পর হোসে মরিনহো প্রথমবারের মতো পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। হিসেবের খাতায় গার্দিওলার বিপক্ষে পিছিয়ে থাকলেও গত রবিবার রাতের ম্যাচে ঠিকই শেষ হাসি হেসেছেন পর্তুগিজ কোচ। অভিষিক্ত স্টিফেন বার্জউইন এবং সন হিউং মিনের গোলে সিটিকে ২-০ তে হারিয়েছে টটেনহ্যাম।

গেল মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের পরই টটেনহ্যাম-ম্যানচেস্টার সিটির দ্বৈরথ বাড়তি মাত্রা পেয়ে গিয়েছিল। চলতি মৌসুমের মাঝপথে মরিনহো টটেনহ্যাম ডাগআউটে আসায় সিটি-স্পার্স দ্বৈরথটার মাহাত্ম্য বেড়েছে আরো। প্রতিপক্ষ কোচের নাম যে পেপ গার্দিওলা!

দুজনের ২৩ বারের দেখায় গার্দিওলার জয় ১০টি, বিপরীতে মরিনহোর ঝুলিতে ছিল ৭টি জয়। রবিবার রাতে প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই লাগাম হাতে নেয়া সিটি জানান দিচ্ছিল গুরুর রেকর্ডটা আরেকটু সমৃদ্ধই করতে উন্মুখ তারা। শুরুর কর্তৃত্বটাকে পেনাল্টি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি সিটি। ৩৯ মিনিটে ভিএআরের কল্যাণে পাওয়া সুযোগটি নিতে আসা ইলকায় গুন্দোয়ানকে রুখে দেন টটেনহ্যাম গোলরক্ষক হুগো লরিস।

বিরতির পর আট মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয় সিটি। ৬৩ মিনিটে লুকাস মৌরার বাড়ানো বলে পা ছুঁইয়ে বার্জউইন স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। ৭১ মিনিটে সিটির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন দক্ষিণ কোরীয় স্পার্স ফরোয়ার্ড সন।

মরিনহো জয়ের পর জানালেন, গার্দিওলাকে হারানো সবসময়ই তৃপ্তি দেয় তাকে।  তিনি বলেন, ‘এমন কঠিন ম্যাচে তিনটি পয়েন্ট সবসময়ই তৃপ্তিদায়ক। গার্দিওলাকে নিয়ে আমার যে ভালো অনুভূতি আছে তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। আমরা একসঙ্গে তিন বছর কাটিয়েছিলাম।’

অভিষিক্ত বার্জউইনকে নিয়ে মরিনহোর ভাষ্য, ‘ক্লাবে আসার জন্য এটাই সবচেয়ে ভালো উপায়। আমরা তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছি না। আমরা এ সপ্তাহেই তাকে দলে ভিড়িয়েছিলাম, তাই তাকে অনুশীলন করানো এবং কথা বলার সুযোগটা ছিল। ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে গোল করা, তাও স্বাভাবিক কিছু নয়; এর চেয়ে ভালো কিছু আর হতেই পারত না তার জন্য।’

এদিকে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা লিভারপুল থেকে ২২ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ায় হতাশ গার্দিওলা। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো খেলেছি কিন্তু ম্যাচটা হেরে গেছি। আবারো এমনটা হয়েছে। গোলমুখে তাদের শট ছিল মাত্র দুটো, আর তাতেই দুটো গোল পেয়ে গেছে তারা।’

চলতি মৌসুমে ভালো খেলেও হেরে যাওয়া একরকম অভ্যাসেই পরিণত হয়েছে সিটির। স্প্যানিশ এই কোচের হতাশার কারণও এটাই, ‘এই পারফরম্যান্সকে কীভাবে সমালোচনা করতে পারি? এই পারফরম্যান্সকে খারাপ বলাটা অবিশ্বাস্য ভুলই হবে। আমরা সুযোগ তৈরি করছিলাম এবং কম সুযোগ দিচ্ছিলাম তাদের।’

৬০ মিনিটে ওলেস্কান্দার জিংচেঙ্কোর লাল কার্ড দেখাকে বড়ো একটা কারণ হিসেবে দেখছেন গার্দিওলা, ‘লাল কার্ডটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিরতির সময়ে আমি বলেছিলাম, সাবধান হও। হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্তগুলো খুব তাড়াতাড়িই আসে। দিন শেষে সেটাই হয়েছে।’