দেশের ৩৬ জন বিশিষ্ট নাগরিক বলেছেন, সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু আসন্ন নির্বাচন কেমন হবে, আদৌ শান্তিপূর্ণভাবে হবে কিনা কিংবা তা সুষ্ঠু ও অবাধ হবে কিনা-তা নিয়ে জনমনে বিরাজ করছে প্রবল সংশয়-অবিশ্বাস। উত্সবের বদলে আতঙ্ক আর উদ্বেগ ঘিরে রেখেছে মানুষকে। সরকারসহ সব মহলকে সতর্ক করে দিয়ে তারা বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর যেমন সরকার ও সকল দলের জন্য পরীক্ষা, তেমনই জনগণের জন্যও পরীক্ষা। এই অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে বাংলাদেশ এক মহাবিপর্যয়ে পতিত হতে পারে। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তাদের পক্ষ থেকে পাঠ করা এক যৌথ বক্তব্যে এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আহমেদ কামাল, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক সি আর আবরার, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, নিউএইজ সম্পাদক নূরুল কবীর, মানবাধিকার কর্মী জাকির হোসেন, অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস; শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক অমল আকাশ, আলোকচিত্রী তাসলিমা আক্তার, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া; রাজনৈতিক কর্মী ও সাবেক ছাত্রনেতা লাকী আক্তার প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকার ও নির্বাচন কমিশন যথাযথ দায়িত্ব পালন করুক, ভোট কেন্দ্রগুলোতে জনতার ঢল নামুক, জনগণের শক্তিতে বাংলাদেশ রক্ষা পাক, ভোটের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে জনগণের সকল শঙ্কা-অনিশ্চয়তা ও সহিংসতা থেকে বাংলাদেশ রক্ষা পাক। এ চরম অনিশ্চয়তাকালে দেশবাসীর কাছে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সবার প্রতিজ্ঞা হোক আমার ভোট আমিই দেবো, জনবিরোধী লুটেরা এবং রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের হাতে আমরা আমাদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ তুলে দেবো না। আর এজন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন আয়োজনের অবশিষ্ট সময়টুকুতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের কাজে সম্পৃক্ত প্রশাসন যাতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও যুদ্ধাপরাধী পুনর্বাসিত হয়েছে। বিগত সময়ে দলীয় সরকারের অধীনে যেসব নির্বাচন হয়েছে সেগুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এটা এই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব এই ধারণা থেকে জনগণ দূরে সরে গেছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. শাহদীন মালিক বলেন, আমাদের ভূমিকা হচ্ছে মসজিদের মোয়াজ্জিনের মতো। মোয়াজ্জিনের ভূমিকা হচ্ছে তিনি আজান দেবেন। নামাজের সময় হয়েছে বলে তিনি তার আজানের মাধ্যমে জানান দেবেন। এখন মোয়াজ্জিনের আজানের ডাকে সাড়া দিয়ে কেউ যদি নামাজে না যান তাহলে তো তার কিছু করার নেই। মোয়াজ্জিনতো আর আজান বন্ধ করতে পারবেন না। আমাদের তো দলীয় ভূমিকা নেই, নেই রাজনৈতিক দল। আমরা জনগণের কাছে ৩০ ডিসেম্বর ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের ভোটটি দেওয়ার আহ্বান জানাতে পারি, এবং তা করে যাচ্ছি।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, যারা হামলার শিকার হচ্ছেন তারা পুলিশের কাছে সুরক্ষা চাচ্ছেন, তবে পাচ্ছেন না। সরকারি দলের প্রার্থীরা মাঠে নামলে শত শত পুলিশ সেখানে নামানো হচ্ছে। সরকারি গাড়িসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তারা ভোগ করছেন। এতে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানো হচ্ছে।
সম্প্রতি কারামুক্ত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, প্রতিবাদ করা আমাদের নাগরিকদের অবশ্যই কর্তব্য। এখানে অন্যায় হচ্ছে, তাই প্রত্যেক নাগরিকের প্রতিবাদ করা প্রয়োজন।
