বইমেলায় ঢুকলেই বড় প্রকাশনী ও জনপ্রিয় লেখকদের উত্তাপ টের পাওয়া যায়। স্টলের দেয়ালে লেখকদের ছবি, নতুন আসা বইয়ের রঙিন প্রচ্ছদ পাঠকের চোখ রাঙিয়ে দিয়ে যায়। মেলায় ঢুকলেই জনপ্রিয় লেখকদের এই উত্তাপ টের পাওযা যায়। এদের তুলনায় ছোট প্রকাশনীর আয়োজন খুব একটা চোখেই পড়ে না। কিন্তু একটু ঘুরলেই দেখা যায় নতুন প্রকাশকদের ঘিরে তরুণ লেখকরা উঠে আসছে। অপেক্ষাকৃত নবীন প্রকাশকরা বলছেন হাজার হাজার না হলেও তরুণ লেখকদের বই বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। এইসব নবীন লেখকদের বই নিয়েই মেলায় আসছেন তারা। নবীন প্রকাশকদের প্রকাশনার বিস্তার দেখলে বইমেলার নতুন দিগন্ত সামনে এসে হাজির হয়। বইমেলা যে দিনে দিনে নানা বিষয়ে বৈচিত্রপূর্ণ বইয়ে ভরে উঠছে তা জেনে মন ভালো যায়। দুবছর ধরে মেলায় অংশ নিচ্ছে প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান চন্দ্রবিন্দু। মেলার শুরুতেই তারা নতুন বই নিয়ে এসেছে ৬৭টি। স্টল থেকে বিক্রিও বেশ ভালো। রাসেল রায়হান, আশান উজ জামান, শাহিন শাওন এইসব তরুণ লেখকদের বই দেখে পড়ে পাঠকরা সংগ্রহ করছেন- বলে জানালেন দোকানের বিক্রেতারা।
অপর এক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘এক রাঙ্গা এক ঘুড়ি’ তারাও মেলায় গত ছয় বছর ধরে অংশ নিচ্ছেন। নামী লেখকদের বই প্রকামেল দিকে না ছুটে তারা তরুণ লেখকদের বই প্রকাশ করছে। এ প্রকাশনীর প্রকাশক শিমুল অঅহমেদ জানালেন, তরুণ লেখকদের বই একটা মেলায় ২শ থেকে ৩শ কপি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
ঝিগাতলার বাসিন্দা কলেজ ছাত্র তাফসিরুল হাসানও জানালেন একই কথা। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের একাদশ শেণির এই ছাত্র কলেজ তেকে সরাসরি চলে এসেছেন বইমেলায়। ঘুরে ঘুরে বই পড়ে দেখছেন, কিনেও ফেলেছেন দু’একটা। তিনি বললেন, মেলার শুরুতেই বই কেনার জন্য ভালো। জনপ্রিয় লেখকদের বই মেলার একটু পরে আসে। তরুণ এবং যারা সিরিয়াস লেখক তাদের বই মেলার শুরুতেই চলে আসে। অঅমি সেজন্য মেলার প্রথম দিকে আসি বই কিনতে। মেলায় ভিড় কম থাকে। সময় নিয়ে বই পড়ে কেনা যায়।
এমনই চমক জাগানো সব বই নিয়ে হাজির প্রকাশকরা। তবে অবাক বিস্ময় নিয়ে হইজর হয় বিজ্ঞান একাডেমি। শুধু বিজ্ঞান ও গণিত নিয়ে পাঁচশোর বেশি বই প্রকাশ করেছে তারা। বিজ্ঞানের যে অগ্রগতির এর তার ধরতে পারছেন না অনেকেই। কিন্তু এ প্রজন্মের কাছে সেসবের প্রতিই আগ্রহ বেশি। তাই কিশোররা এসব বইযের দিকে ঝুঁকছে বেশি। এখানকার বিক্রয় ব্যবস্থাপক আবু সাইদ বললেন, বিক্রি খুব ভাল। এসব বিষয়ের প্রতি মানুষের বিশেষ করে কিশোরদের আগ্রহ বেশি। অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা বললেন, বিজ্ঞান ও গণিত বিষয়ক বইযের বেশ চাহিদা। বইমেলায় তো বিক্রি হয়েই সারাবছর ধরেই এসব বই বিক্রি হয়।
আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর ‘আমার দেখা নয়াচীন’
সোমবার বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত আমার দেখা নয়াচীন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শামসুজ্জামান খান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. ফকরুল আলম এবং কবি তারিক সুজাত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
নতুন বই :একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ৩৭টি। পাঞ্জেরী থেকে সেলিনা হোসেনের ‘আওয়ার বিলাভড শেখ মুজিব’, হক ফারুক আহমেদের গল্পগ্রন্থ ‘শহরে দেবশিশু’, বেঙ্গল পাবলিকেশন্স থেকে সৈয়দ শামসুল ইসলামে নুন-পূর্ণিমা, আদর্শ থেকে আয়মান সাদিক ও সাকিব বীন রশীদের ‘লোকে কি বলে?’, আগামী থেকে ড. সালিম সাবরীনের ‘ভাষা সাম্রাজ্যবাদ ও মানবাধিকার’, একই প্রকাশনা সংস্থা থেকে ড. মোহাম্মদ আমীনের ‘এক নজরে বঙ্গবন্ধু’, অনিন্দ্য থেকে মোশতাক আহমেদের ‘জোছনার ছায়া’, অনন্যা থেকে মহাদেব সাহার ‘আত্মস্মৃতি ১৯৭৫: সেই অন্ধকার সেই বিভীষিকা’, পাঞ্জেরী থেকে ধ্রুব এষের ‘পরেশের বউ’ অন্যতম।
