চট্টগ্রামে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় ভোটের মাঠে আতঙ্ক

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:৫০

চট্টগ্রামে কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় হামলা ও পাল্টা-হামলার কারণে ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিপক্ষের হামলায় হতাহতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জেলার বাঁশখালী নির্বাচনী এলাকায় গত কয়েক দিন যাবত্ নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী তার নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার অভিযোগ করেছেন। তিনি গতকাল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, বাঁশখালীর উত্তর চাম্বলের শিকদারের দোকান এলাকায় প্রচারণায় গেলে ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হকের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়। আমার জনসভায়ও হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া কয়েকদিন আগে বাঁশখালীতে প্রচারণাকালে বিএনপি প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীও তার উপর হামলার অভিযোগ করেছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল ইসলাম। এই নির্বাচনী এলাকায়ও বিক্ষিপ্ত ভাবে প্রচারণায় বাধা ও হামলার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থীর তেমন তত্পরতা দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া চট্টগ্রাম-১৪ আসনের নির্বাচনী এলাকা সাতকানিয়া অংশে এলডিপি প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের উপর ইতোমধ্যে প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রচারণা কেন্দে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। গত শুক্রবার সীতাকুন্ডের ভুঁইয়াপাড়া ও গজারিয়াদীঘি পাড় এলাকায় নৌকার প্রচারণা কেন্দে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার জন্য নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দিদারুল আলম বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করেছে। পটিয়ায় হাইদগাঁও এলাকায় পাল্টা হামলায় বাঁশের তৈরি নৌকা পুড়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। নগরীর বাদুরতলা এলাকায় নৌকা প্রার্থীর প্রচারণা গাড়িতে হামলা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকাগুলোতে মহাজোট প্রার্থীর ব্যাপক প্রচারণা দেখা গেলেও বিএনপি প্রার্থীদের তেমন প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না। অনেক এলাকায় পোস্টারও লাগানো হয়নি। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্ক ও মামলার ভয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় স্থবিরতা বিরাজ করছে।

চট্টগ্রামে বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। মাইক নিয়ে ট্রাক, রিকশা ও অটোরিকশা করে নৌকা প্রতীকের প্রচারণা চলছে। এছাড়া প্রার্থীর অনুসারীরা মিছিল, সমাবেশ ও ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। ভোটের মাঠে তারা তত্পর রয়েছে। এছাড়া সিপিবি, ইসলামিক ফ্রন্ট, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে।

ইত্তেফাক/আরকেজি