তাদের সাফল্যের গল্প

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:৩৫

পরিশ্রমই সাফল্যের চাবিকাঠি। যে যত বেশি পরিশ্রম করবে, সে তত বেশি সাফল্যের শিখড়ে পৌঁছাবে। সম্প্রতি ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৮’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ১৭২ জন শিক্ষার্থী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় অনুষদের ছয় জন মেধাবী জায়গা করে নিয়েছেন এই তালিকায়। তাদের সাফল্য অর্জনের অনুভূতি নিয়ে লিখেছেন— ইমরান হোসাইন হিমু

রাফাত আহমেদ বাঁধন

চারুকলা বিভাগ

 

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয়েছি, এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার এই প্রাপ্তি যতটা না আনন্দের, তার চেয়ে অনেক বেশি গর্বের। ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গেলে ওনাকে সব সময় দূর থেকে দেখতাম আর ভাবতাম, কখনো যদি সুযোগ হতো সামনাসামনি দেখা করার। কখনো ভাবিনি এরকম কৃতিত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এভাবে দেখা হওয়ার সুযোগ হবে। আমার সাফল্যের  পেছনে বাবা-মা আর আমার বড়ো ভাইয়ের  অবদান সবচেয়ে বেশি। তারা সব সময় আমাকে উত্সাহ দিয়ে গেছেন। আমার সব চেষ্টার পেছনে তারা ছায়ার মতো থেকেছেন। ভবিষ্যতে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাওয়ার তীব্র ইচ্ছা আছে। দিন শেষে দেশ ও জাতির সেবা করার কোনো সুযোগ পেলে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই।

 

মাসুমা আক্তার

বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

 

যে কোনো কিছু অর্জন আনন্দের। কিন্তু যখন সেটা প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক হয়, তখন আনন্দের সীমা থাকে না। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া জানাই আমার সাফল্যের জন্য। চোখে পানিও চলে এসেছিল, আজ আমার বাবা বেঁচে থাকলে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। আমি যখনই কোনো সাফল্য ছুঁই, তখন বাবাকে খুব মিস করি। বাবা মারা যাওয়ার পর আমার বড়ো আপু আমাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। আপু আমাকে তার সন্তানের মতো করে বড়ো করে তুলেছে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে পড়ালেখাকে নিজের দায়িত্ব মনে করলে সবকিছুই সম্ভব। নিয়মিত পড়ালেখার চাপ না নিয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করলেই সাফল্য আসবে।  ভবিষ্যতে কোন দিকে যাব এখনো ঠিক করিনি। আমি মনে করি আমার চেষ্টা করে যাওয়াটাই কাজ। বাকিটা আল্লাহ যা ভাগ্যে রাখছে তাই হবে।

 

মেহের জেবিন আলম

ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ

 

যেদিন উপলব্ধি করতে পেরেছি আমার বাবা-মা ও ভাই আমার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন, সেদিন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি পড়াশোনা ভালোভাবে করার। আমি নিয়মিত ক্লাস করতাম এবং শিক্ষক যা নির্দেশনা দিতেন, তা অনুসরণ করার চেষ্টা করতাম। প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক পাচ্ছি এই সংবাদটা যখন বাবা-মাকে জানালাম, তাদের চোখে-মুখে সন্তুষ্টির ছায়া আমাকে অনেক বেশি আনন্দ দিয়েছে। ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ডিপার্টমেন্ট আমার পরিবার। আমি এই পরিবারের সদস্য না হলে আমার এই সাফল্য সম্ভব ছিল না। আমি আমার শিক্ষক,  বন্ধুবান্ধব সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের সংক্ষিপ্ত পড়তে চাওয়ার মানসিকতা পালটে যেই বিষয়টা পড়ছি সে বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে কোন ক্যারিয়ারে যেতে চায়, সেটা নির্দিষ্ট করতে হবে। ক্লাসের পাশাপাশি ক্যারিয়ার গঠনের জন্য একটু একটু প্রস্তুতি নিলে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। আমি যে বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেছি, সে বিষয়ে আরো জ্ঞানার্জন করতে চাই। ভবিষ্যতে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের শেখানোর মাধ্যমে সারাজীবন শিক্ষা গ্রহণ করতে চাই।

তামান্না আজিজ তুলি

আইন ও বিচার বিভাগ

 

নিয়মিত ক্লাস করা, ক্লাসে নোট নেওয়া, সময়ের কাজ সময়ে করা আর শিক্ষকদের লেকচারে মনোযোগী হওয়ার কারণে আজ আমি সাফল্য অর্জন করেছি। এই অর্জন আসলেই একটা অন্যরকম ভালো লাগা। নিজের চাইতে পরিবারের কথা ভেবে বেশি খুশি আমি। গর্ব করার মতো আরেকটা মুহূর্ত পাবে তারা। চেষ্টা করব উচ্চতর ডিগ্রির জন্য এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবিষ্ট করতে।

 

জান্নাতুন হুসনা তুয়া

ভূগোল ও পরিবেশ  বিভাগ

 

পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রাপ্ত সম্মাননা নিঃসন্দেহে ভীষণ রকমের আনন্দের। আর তা যদি হয় সর্বোচ্চ সম্মাননাগুলোর একটি, তখন গর্ববোধও হয় আনন্দের সাথে। এই প্রাপ্তির পেছনে আমার               সম্মানিত  শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ছিল বলেই সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পেরেছি। আর এই প্রাপ্তি যতটা না আমার, তার থেকে              অনেক বেশি আমার মায়ের। যিনি একা আমাকে এতদূর পর্যন্ত এনেছেন, সাহস দিয়েছেন, শক্তি জুগিয়েছেন। প্রথম থেকেই যদি  লক্ষ্য স্থির করে পরিশ্রম করা যায়, তাহলে লক্ষ্য অর্জনের পথ সহজ হয়, পরিশ্রমের বিকল্প কিছু নেই। নিজের ওপর আস্থা রাখাটা             জরুরি, তাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া যায়। আরো শিখতে চাই, আরো জ্ঞান অর্জন করতে চাই, সর্বোপরি দেশের জন্য কিছু করতে চাই।

 

নাদিয়া আফরিন রিতু

কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

 

ঐ দিন আমি অফিসে ছিলাম। আমার ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান স্যার ফোন করে আমাকে বলেন যে আমি প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয়েছি। তখন আমার খুশি হাজার গুণ বেড়ে গিয়েছিল। আম্মুকে যখন ফোন দিয়ে জানাই, তখন খুশিতে আমার চোখে পানি চলে এসেছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। তাই আমি ঐ দিনই বিভাগে এসে আমার নাম চেক করি, তখন বিশ্বাস হলো আমি পদকের জন্য সত্যি মনোনীত হয়েছি। ঐ দিনের অনুভূতি আমি কোনোদিনই ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।

আমি রুটিন অনুসরণ করে লেখাপড়া করতাম। কোন দিন কোন বইয়ের কতটুকু পড়ব, তা আগেই নোট বইয়ে লিখে রাখতাম। নিয়মিত ক্লাস করতাম এবং পরীক্ষার আগেই সব পড়া শেষ           করতাম। পরীক্ষার আগের দিন ২ ঘণ্টা পড়ে ঘুমিয়ে যেতাম। আমার এই অর্জনের পেছনে আমার বাবা-মায়ের অবদান অনেক বেশি।   আব্বু সব সময় বলতেন, পড়াশোনা মানে শুধু প্রথম হওয়া নয়, পড়াশোনার অর্থ  জ্ঞান অর্জন করা এবং সেই জ্ঞান দিয়ে অন্যের সাহায্য করা। তোমার                     একটাই কাজ পড়াশোনা করা। পরিবারে আরেকজনের কথা না বললেই নয়, তিনি আমার বড়ো            ভাই। তিনি সম সময় আমাকে পড়ালেখার ব্যাপারে উত্সাহ দিতেন। জাহাঙ্গীরনগরে ভর্তির                পেছনে সব ক্রেডিট ভাইয়ার। আমার আজকের এই সাফল্যের পেছনে জাহাঙ্গীনগরের অবদান  সবচেয়ে বেশি, সেখানে শিক্ষকতা করার স্বপ্ন দেখি। আমার মেধাকে আমারই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজে লাগাতে চাই।