কর্মক্ষেত্রে যার অধীনে কাজ করছেন, তার যোগ্য নেতৃত্ব গোটা বিভাগকে এগিয়ে নিতে পারে। আপনি এবং দলের পিছিয়ে থাকার পেছনে বসের পেশাদারি দুর্বলতা সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে। ক্যারিয়ারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ লিজ রায়ান জানাচ্ছেন এমন সাতটি লক্ষণের কথা, যার মাধ্যমে বুঝবেন যে আপনার বস দুর্বল চিত্তের অদক্ষ কর্মকর্তা।
এ ধরনের বসরা পৃথিবীর যাবতীয় প্রশ্নের জবাব যেন আগে থেকেই জানেন। আপনি যতই সৃষ্টিশীল আইডিয়া নিয়ে তার কাছে যান না কেন, তিনি তা আমলেই নেবেন না। তার জবাব সাধারণত এমন হবে, ‘আসলে এটা নিয়ে আগেই ভেবেছি আমি...।’ কিন্তু আদর্শ নেতা আপনার পরিকল্পনার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন এবং আগ্রহের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
দুর্বল ব্যক্তিত্বের বসরা সব সময় কর্মীদের ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সত্যিকার নেতা তার কর্মীর ভালো দিকগুলোও তুলে ধরেন। কাজে ৯৯ শতাংশ নির্ভুল থাকলেও অযোগ্য নেতা বাকি ১ শতাংশ নিয়েই মন্তব্য করতে থাকবেন।
কর্মীদের বাদ দেওয়া এবং নতুন কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়াটি দুর্বল নেতারা বারবার করেন। কিন্তু যে বিভাগীয় প্রধানরা দক্ষ, তারা যাদের বেছে নেন, তাদের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকে। অর্থাত্ এমন বসরা নিজের পছন্দের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু দুর্বল নেতারা কর্মীদের ওপর ভরসা রাখেন না এবং তাদের ঘন ঘন বদলাতে উদ্যোগ নেন।
অযোগ্য ব্যবস্থাপকরা কখনো কর্মীদের কথায় কান দেন না। তারা মনে করেন, যাবতীয় সুবুদ্ধি এবং নিখুঁত পরিকল্পনা একমাত্র তাদের মাথা থেকেই বেরোয়। এটা তাদের মানসিক জটিলতা। তারা কখনোই অধীনস্থদের কাছ থেকে মতামত নিতে আগ্রহী নন। আর এ কারণে তাদের মাধ্যমে কখনোই সর্বোচ্চটুকু পায় না প্রতিষ্ঠান।
ভালো ব্যবস্থাপকদের মনে একটা প্রশ্নই ঘুরে বেড়ায়। তা হলো, কী কী বদলানো যায় বা কী পরিবর্তন প্রয়োজন। উন্নতির ধারা অব্যাহত রাখতে এবং তাল মিলিয়ে চলতে সব ধরনের পরিবর্তনে প্রস্তুত তারা। অদক্ষ বসরা পরিবর্তনের মধ্যে বিন্দুমাত্র ইতিবাচক আশাবাদ খুঁজে পান না। তারা সবসময় গতানুগতিক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী।
দুর্বল ব্যবস্থাপকরা তাদের দুর্বলতা ঢাকতে যেকোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করতে অস্থির হয়ে থাকেন। কোনো কর্মীর কাছে তাদের যোগ্যতা বা কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হলে ওই কর্মী তার শত্রু বনে যাবেন। তখন তাকে নানা চাপের মুখে রেখে বিনা কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বসের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠবে। সবার শেষের লক্ষণটি হলো, দুর্বল বসরা সব বিষয়ে ভীত থাকেন। তারা নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতাকে অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরার জন্য ভীত। তারা বিভাগের কর্মীদের কাছাকাছি যেতে ভীত থাকেন। এই কৃত্রিম ভাবগাম্ভীর্য মূলত তাদের অযোগ্যতার নিশানা।
