নারীবান্ধব বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উদয় টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে চলেছে শতশত বেকার নারী। বেকার ছাত্রদের পাশাপাশি বেকার ছাত্রীরাও একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়ে আজ তারা ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানের কাজের সুযোগ তৈরি করেছেন। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৮ নম্বর ভাদগ্রাম ইউনিয়নের নির্ভৃত পল্লীর ভাদ গ্রাম এলাকায় গড়ে উঠেছে ‘উদয় টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’। এর মূল উদ্যোক্তা হলেন উদয় বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ও নির্বাহী পরিচালক দে সুধীর চন্দ। তিনি জানিয়েছেন, সমাজের হতদরিদ্র পরিবারের বেকার যুবক-যুবতিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থান হিসেবে গড়ে তোলাই হচ্ছে তার প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
উদয়ের কর্মকর্তা চন্দনা দে জানান, বাংলাদেশ সরকারের কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক অনুমোদন নিয়ে ১৯৯৫ সালে উদয় টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (টিটিআই) প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু হয়েছে। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগিতায় এখানে সুদক্ষ প্রশিক্ষক দ্বারা প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে বি-স্কিল ফুল, স্কিল ফর ইমপ্লয়মেন্ট প্রোগ্রাম (এসইআইপি), কম্পিউটার, গার্মেন্টস, আউটসোর্সিং, ইলেকট্রিক, আইসিটি, মোবাইল সার্ভিসিং, আইটিসহ বিভিন্ন বিষয়। সমাজের অতি দরিদ্র পরিবারের বেকার ছাত্রীরা নিজেদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে বেশি। টাঙ্গাইল, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনা, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার বেকার যুবক-যুবতিরা বিভিন্ন কোর্সে তিন মাস, ছয় মাস ও এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে নিচ্ছে।
পাবনা জেলার রুমা আক্তার, টাঙ্গাইলের নগর ভাদ গ্রামের সাথী, বরাটি গ্রামের মাসুম ও রব্বানীসহ অনেকেই জানিয়েছেন, এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স শেষ করে আজ তারা দেশের ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। অভাব- অনটনের সংসারে ফিরে এসেছে সুখশান্তি। তারা আরো জানিয়েছে, বেকার জীবনে বাবা মায়ের সংসারে এক সময় তারা লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে। উদয় টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (টিটিআই) প্রশিক্ষণকেন্দ্র তাদের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছে।
এ বিষয়ে উদয় টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (টিটিআই) মূল উদ্যোক্তা এবং প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নির্বাহী পরিচালক দে সুধীর চন্দ বলেন, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি চালু হওয়ার পর এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার বেকার যুবক-যুবতির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। মনোরম পরিবেশে তারা নিরাপত্তার মধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। উদয় টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে বেকার যুবক-যুবতিদের বিভিন্ন কোর্সে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বৃক্ষ রোপণ, গবাদি পশু পালন, মত্স্য চাষ, মৃিশল্পসহ হতদরিদ্রদের সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতা করে আসছেন। ভবিষ্যতে তার প্রতিষ্ঠান যাতে আরো প্রসারিত করতে পারেন, সেজন্য তিনি বাংলাদেশ সরকার, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ দেশ-বিদেশের সুধীজনের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন।
