ভাগ্য বদলের আশায় নওগাঁ থেকে সাভার এসেছেন স্বামীর সঙ্গে। আমেনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ রফিক-জব্বার হলের সামনের সড়কের পাশে মাটির চুলা বানিয়ে পিঠা তৈরি করে সেখানেই বিক্রি করেন। শীত উপলক্ষ্যে তার এই বেচাবিক্রি।
আমেনা জানান, তিনি শহিদ রফিক-জব্বার হলের ক্যান্টিনে কাজ করতেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের বিনিময়ে দিনপ্রতি ২০০ টাকা দেওয়া হত। সেই টাকাও ঠিকমতো পরিশোধ করত না ক্যান্টিন মালিক। এখনো আমেনা হাজার টাকা পাবেন বলে জানান। এখন আমেনা নিজে ভাঁপা পিঠা, তেলের পিঠা ও চিতই পিঠা বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিক্রি করেন। সঙ্গে থাকে ১০ বছরের ছেলে আলামিন। দিনে অন্তত ৪০০ টাকা লাভ হয়। বাড়তি আয়ে খুশি আমেনা। আমেনা বলেন, স্বামী রিকশা চালায়। ভাড়া বাসায় থাকি। বড়ো ছেলেকে পড়াতে পারিনি। মেয়ে বিয়ে দিয়ে দিয়েছি। এখন কিছু টাকা হাতে থাকছে। ছোটো ছেলেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন আমেনা। জানান, নিজের আয়ে পড়াবেন আলামিনকে।
আত্মপ্রত্যয়ী সাভারের ধামরাইয়ের বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ রাবেয়া খাতুন সন্তানের বোঝা হতে রাজি নন। তাই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে অস্থায়ী মাটির চুলায় পিঠা বানিয়ে বিক্রি করেন। পাটিসাপটা, মাংস পিঠা, চিতই পিঠা পাওয়া যায় তার কাছে। একমাত্র সন্তান মোহাম্মদ সেলিম মিয়া ক্যাম্পাসে রিকশা চালান। ছেলের সঙ্গেই থাকেন রাবেয়া। তবে টাকার জন্য ছেলের কাছে হাত পাতেন না কখনো। বরং ছেলেকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেন।
রাবেয়া বলেন, তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া নাতি তায়েব ও চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া নাতনি সেলিনা আক্তারকে মানুষের মতো মানুষ করার স্বপ্ন। রাবেয়া পিঠা বিক্রির আগে কাজ করতেন ক্যাম্পাসের বটতলায় খাবার দোকানে। সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত থাকতে হত। দিনপ্রতি পেতেন ২৫০ টাকা। শীতের সময়টায় পিঠা বিক্রি করে আয় করছেন অন্তত দ্বিগুণ।
শীত উপলক্ষ্যে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে এমন দেড় ডজনেরও বেশি অস্থায়ী পিঠার দোকান গড়ে উঠেছে। প্রতিটি দোকানের সঙ্গেই প্রান্তিক পর্যায়ের নারীরা সম্পৃক্ত। সবার জীবনের গল্প অনেকটা আমেনা-রাবেয়াদের মতোই। বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ী এসব দোকান বসাতে কাউকে চাঁদা দিতে হয় না। নারী বলে কেউ বাঁকা চোখেও তাকায় না। শীতকে কেন্দ্র করে এখানকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রামীণ জীবনের আমেজে ফিরে যাওয়ার যাতনা তৈরি হয়। এই আমেজে বাড়তি আয়ের সুযোগ করে নিয়েছেন এসব নারী।
