তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে দেশের ই-কমার্স সেক্টর। ই-কমার্স দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে দিন দিন গতিশীল করে যাচ্ছে। আমাদের এবারের আয়োজনে এই ডিজিটাল শিল্পের উন্নয়নে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)-এর কমিউনিকেশন ডিরেক্টর সাঈদ রহমান
তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কর্মমাধ্যমের অগ্রগতিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
প্রথমেই দেখা উচিত ই-কমার্সের প্রতি নতুন উদ্যোক্তাদের ঝোঁক এবং ক্রেতাদের আস্থা যেভাবে বাড়ছে সেভাবে আমরা নিজেদের তৈরি করে নিতে পারছি কি-না? কারণ এটা প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বিশাল বাজার। এই বাজারে যে কোনো ইতিবাচক ব্যবসায় কিংবা মাধ্যমের ভালো সম্ভাবনা থাকবে। সেই সম্ভাবনাকে পুঁজি করে আমাদের যুবশক্তিকে কাজে লাগতে পারলে আমরা এগিয়ে যাব।
যুবশক্তিকে কীভাবে ই-কমার্সে কর্মী এবং উদ্যোক্তা— দুভাবেই কাজে লাগানো যেতে পারে?
আমাদের প্রথমকাজ হচ্ছে সাপ্লাই চেইন ও প্রোডাকশন বেজড ইনফাস্ট্রাকচার তৈরি করা। এটা করতে না পারলে আমাদের ই-কমার্সের ইকোসিস্টেম তৈরি হবে না। আর ইকোসিস্টেমই পারে তরুণদের এই আবহ ধরে রেখে গোটা ইন্ডাষ্ট্রিকে একটা মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে, আমরা যেটাকে বলি সাসটেইনবল ডেভলপমেন্ট। একদিকে যেমন প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ কর্মী প্রয়োজন, অন্যদিকে প্রয়োজন নেতৃত্বের যোগ্যতাসম্পন্ন সত্ ও পরিশ্রমী একদল উদ্যোক্তা। ইকোসিস্টেম, সাপ্লাই চেইন, দক্ষ জনশক্তি, প্রণোদনা নীতি এবং উত্পাদনমুখিতা প্রতিটি সম্পূরক উপাদান। এগুলোর সমন্বয় করাও জরুরি। প্রাথমিক ই-কমার্স নলেজ স্কুল পর্যায়ে এবং উচ্চতর ই-কমার্স শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক করে তরুণদের শিক্ষা জীবন থেকেই কর্মজীবনের জন্য তৈরি করতে পারি।
ই-কমার্সের উন্নয়নে কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে মনে করেন?
আমাদের উদ্যোক্তাদের সবার আগে পেশাদারী মানসিকতা অর্জন করতে হবে। কারণ আমাদের দেশের সিংহভাগ লোক গ্রামে বাস করে। তারা দেশের উত্পাদিত বিভিন্ন পণ্যের সিংহভাগ উত্পাদনের সাথে জড়িত এবং ভোক্তা হিসেবেও তারা অনেক বেশি। তাই গ্রামীণ জনগোষ্ঠির হাতে ই-কমার্সের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। দ্বিতীয়ত যে বিষয়টি খুব দরকারি সেটা হলো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বার্থরক্ষা। কারণ প্রান্তিক পর্যায়ে একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাও দেশের স্থানীয় অর্থনীতির ভীত গড়তে সাহায্য করে এবং সেবা ও পণ্যকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রান্তিক মানুষদের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই বিষয়গুলোতে নজর দেয়া উচিত।
বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠী কতটা দক্ষ?
আমাদের দেশে দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে সত্য, তার মানে এই নয় যে, কয়েকটা বড়ো ই-কমার্স প্ল্যাটফরমের জন্য যথেষ্ট নেই। মনে রাখতে হবে, এটা ১৭ কোটি মানুষের দেশ। এখানে যদি লাখে একজন মানুষও আপনার জন্য দক্ষ হয়ে থাকে তাহলে প্রায় ১৭শ মানুষের বিশাল দল হবে সেটা। সুতরাং এখানকার জনবল দিয়েও এক বা একাধিক বৈদেশিক বিনিয়োগ নির্ভর মার্কেবল প্ল্যাটফরম তৈরি করা যায়। যেহেতু প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসায় আপনার দক্ষ জনবল থাকলে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন আছে, তাই আমাদের তরুণদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ই-কমার্সের উন্নয়নে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কী ধরনের উদ্যোগের কথা ভাবছেন?
আমি সেই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)-এর সাথে জড়িত। এক্ষেত্রে ই-ক্যাব থেকে যেটা করছে সেটা হলো, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী তৈরির কাজ। তবে উদ্যোক্তামুখী পাঠক্রম ও শিক্ষাব্যবস্থায় ই-কমার্সের অন্তর্ভূক্তি জরুরি হয়ে পড়েছে। পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি যেমন কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে, ঠিক তেমনি যে বিষয়টি আমরা ভুলে যাই সেটা হলো উত্সাহ প্রদান এবং সফ্টস্কিল। উত্সাহ প্রদান এবং সফ্টস্কিল ছাড়া আপনি কখনোই একজন উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারবেন না। একজন উদ্যোক্তা দেহমনে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠলে তিনি তার উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের এবং তার পাশের আরো বহুলোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। এজন্য পরিবার এবং সমাজ থেকে একজন তরুণকে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য উত্সাহ দেওয়াটা খুব বেশি জরুরি।
