বাধা আসবে, তবুও এগিয়ে যেতে হবে

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:৫০

চাকরি কিংবা ব্যবসা, কোনো ক্ষেত্রেই পিছিয়ে থাকতে চায় না এই প্রজন্মের নারী। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যেমন পুরুষের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছেন নারী, তেমনি ব্যবসার ক্ষেত্রেও নিজের অবস্থানের জানান দিয়েই যাচ্ছেন। প্রযুক্তির কল্যাণে পড়াশোনার পাশাপাশি ঘরে বসেই নিচ্ছেন লাভজনক নানা উদ্যোগ। তেমনি অনলাইন ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান ‘সুহাসিনী’, যার উদ্যোক্তা নুসরাত নিমা। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করেন নারীর নানা রকমের গয়না নিয়ে অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ‘সুহাসিনী’।

নুসরাতের জন্ম ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে। কিন্তু বাবা সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের নানা জায়গায়। ত্রিশাল নজরুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে অ্যাডভান্সড রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। নুসরাত বর্তমানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে। কাঠ, সুতা, পুঁতি, রঙ আর বিভিন্ন ধাতব দিয়ে নারীদের নানা রকম গয়না তৈরি করেন নুসরাত। সেগুলো অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘সুহাসিনী’র মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেন। বর্তমানে ‘সুহাসিনী’তে রয়েছে নারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের পণ্য। যার মধ্য ইয়ার রিং, পেনডেন্ট, পায়েল, ক্যানভাস টিপ, রিং, নেকপিস, ব্রাইডাল নন ব্রাইডাল সেট, ফুলের গয়না, শাড়ি সহ মেয়েদের সব ধরনের অলঙ্কার। এছাড়া কাঠ ও মেটাল— দুই ধরনের গয়না পাওয়া যায়। প্রতিটা জিনিসেরই চাহিদা রয়েছে বেশ ভালো। তবে কাঠের জিনিসের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। দামও খুব বেশি না। ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২,০০০ টাকার ভিতরে পাওয়া যায় সব কিছু। প্রতিটি কাজের সাথে মিশে আছে নুসরাতের ভালোবাসা। কেননা প্রতিটি পণ্য নিজ হাতে খুবই নিখুঁতভাবে তৈরি করেন তিনি।

‘সুহাসিনী’ নামটি কীভাবে আসলো জানতে চাইলে নুসরাত বলেন, সুহাসিনী মানে প্রতিটি নারীর সুন্দর হাসি। সুন্দর গয়না পেতে কার না ভালো লাগে। আর এই সুন্দর গয়না পাওয়ার পর নারীদের মন আনন্দে ভরে ওঠে। এই জন্য আমি এর নাম দিয়েছি সুহাসিনী।

নুসরাত বলেন, ২০১৮ সালে শুরু হলেও কাজ শুরু করি ২০১৯ সাল থেকে। শুরুর কিছু দিনের মধ্যেই ভালো সাড়া পেয়েছি। কাজ করছি আর প্রতিদিন নতুন নতুন কিছু শিখছি। শুধু কাঠ, সুতা আর রঙ দিয়ে গয়না বানানোই নয়, চাই নিজে কিছু সৃষ্টি করতে। এই কাজ করার পর অনেক নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে প্রতিদিনই পরিচিত হচ্ছি। বিভিন্ন বয়স এবং পেশার লোকজনের সাথে কথা হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে। ভবিষ্যতে পোশাক নিয়েও কাজ করতে চাই। কোনো ভালো কাজে বাধা আসবে—এটাই স্বাভাবিক। আমার কাজের ক্ষেত্রেও বাধা এসেছে এবং এখনও আসে। শুরুর দিকে পরিবার থেকে তেমন সমর্থন পাইনি। পড়াশুনার ক্ষতি হবে এই ভেবে তারা প্রতিনিয়ত বাধা দিত। যখন রাত জেগে কাজ করি তখন বলা হতো—সব ফেলে দিব, এসব করতে হবে না, পড়াশুনা কর। এছাড়া আর তেমন কোনো বাধা আসেনি। অবশ্য সেমিস্টার ফাইনাল মাঝে মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় কাজ করার ক্ষেত্রে। নতুন  উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে নুসরাত বলেন, উদ্যোক্তা হতে হলে প্রথমে ফোকাস পয়েন্ট ঠিক করতে হবে। সেই অনুযায়ী সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। নিজের ফোকাসে পৌঁছাতে যা যা করা দরকার, তাই করতে হবে। তা না হলে লক্ষ্যে যাওয়া যাবে না। অবশ্যই ধৈর্য এবং সহনশীল হতে হবে। মনে রাখতে হবে, কাজ করতে গেলে নানা রকম বাধা আসবে, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে, যা খুবই স্বাভাবিক। তবে সবকিছু পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।