আড়াই হাজার টন ভোট বর্জ্য

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৩৫

ইসিকে নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সদ্য সমাপ্ত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে ভোট বর্জ্য সৃষ্টি হয়েছে আড়াই হাজার টন। যার মধ্যে সরাসরি প্লাস্টিক বর্জ্য ২ হাজার ৪৭২ টন। তাই ভবিষ্যতে যাতে এমন অবস্থার সৃষ্টি না হয়, সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে নীতিমালার প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছে মুক্তি ফোরাম নামের একটি সংগঠন। সোমবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে লিখিত দাবি জানায়। বৈঠক থেকে বেরিয়ে মুক্তি ফোরামের নেতা আসিফ আদনান বলেন, আমরা প্লাস্টিকহীন নির্বাচনি প্রচারে নীতিমালা চেয়েছি। কমিশন বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা করবেন বলে রফিকুল ইসলাম আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এই নগরে এমনিতেই জঞ্জালে ভরা। আর যেভাবে পোস্টারগুলো প্লাস্টিকে মোড়ানো হয়েছে, এতে পরিবেশের আরো ক্ষতি হবে। এটা থেকে রক্ষা পেতে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।

লিখিত আবেদনে মুক্তি ফোরাম উল্লেখ করেছে—‘স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে যে কোনো দেশেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই নির্বাচনকে আরো অর্থবহ করে তোলে বহুজনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ। অনেকের অংশগ্রহণে সবাই চায় নিজেকে তুলে ধরতে। প্রয়োজন হয় প্রচারের। আর তার প্রধান নিয়ামক পোস্টার। যার আলোকে ২০২০ সালের ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্লাস্টিকে মোড়ানো পোস্টারের বহুল ব্যবহার হয়। যা নির্বাচন পরবর্তী ২ হাজার ৫০০ টন বর্জ্যের কারণ। যার মধ্যে ২ হাজার ৪৭২ টন সরাসরি প্লাস্টিক বর্জ্য।

যে কোনো পরিবেশ সচেতন মানুষের চিন্তার উদ্রেক ঘটাতে যথেষ্ট। উদ্বেগের কারণ হিসেবে গত ২২ জানুয়ারি পলিথিনে মোড়ানো পোস্টার লাগানো কেন বেআইনি নয়, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের পলিথিনে মোড়ানো পোস্টার লাগানোর বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বিত বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ নির্দেশ দেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।’ ‘অথচ শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে একদমই নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। নির্বাচন শেষে পোস্টার সরিয়ে ফেলাই যে সমাধান নয় বরঞ্চ যেখানে প্রতিটি দেশ, রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান প্লাস্টিক বর্জ্য উত্পাদনে নিরুত্সাহিত করছে সেখানে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কার্যকর সময়ে এমন নীরব ভূমিকা পরোক্ষভাবে প্লাস্টিক দূষণের জন্য দায়ি।’

‘শুধু তাই নয়, ২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুুনসহ অন্যান্য প্রচার সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ক্যাম্প সরানোর নির্দেশ রয়েছে স্বয়ং প্রার্থীদের ওপর। কিন্তু প্লাস্টিক পোস্টারের বিষয়টি সুরাহায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেরকম আক্ষরিক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি নির্বাচন কমিশন।’ যেহেতু নির্বাচন কমিশনের এ বিষয়ক কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। সেই সঙ্গে হাইকোর্টের রুল জারি হওয়ার এতদিন পরও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।